Thursday, March 5, 2026

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য, কর্মচারীর আত্মহত্যার চেষ্টা


ছবিঃ ইবি লোগো/ আসমা সাদিয়া রুনা (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ায় অবস্থিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এ সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার শিকার হয়েছেন। একই ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিভাগের সভাপতির কক্ষে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেলে হঠাৎ ‘বাঁচাও’ চিৎকার শুনে ভবনের নিচে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপরে ছুটে যান। তারা চেয়ারম্যানের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে আসমা সাদিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় অভিযুক্ত কর্মচারী নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন বলে জানান তারা।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসক আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। ফজলুর রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিভাগীয় একাধিক শিক্ষক জানান, প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগে ফজলুর রহমানকে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বেতন ও আচরণগত বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে বিভাগের বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে।

সমাজকল্যাণ বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, বদলির সিদ্ধান্ত বিভাগীয় কমিটির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল। তবে শুধুমাত্র বদলির কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা কল্পনাতীত। অন্য এক শিক্ষক জানান, অভিযুক্ত কর্মচারী প্রায় আট বছর আগে অস্থায়ী ভিত্তিতে যোগ দেন এবং মাঝেমধ্যে সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন।

বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বদলির আদেশ তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না এবং বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতেন। ঘটনার সময় বিভাগে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে তারা ধারণা করছেন।

ঘটনার পর পুলিশ, ডিবি, সিআইডি ও র‍্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছেন। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কক্ষের ভেতরে থাকা দুজনের একজন অপরজনকে আঘাত করেছেন। তবে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন ঘটনাটিকে মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল—এটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

শিক্ষাঙ্গনে এমন সহিংস ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে এই নৃশংস ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন