Thursday, March 5, 2026

ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকে আর বিনিয়োগ নয়: এনভিডিয়ার সিইও


ছবিঃ এনভিডিয়ার সিইও (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

সান ফ্রান্সিসকোর মর্গান স্ট্যানলি টেকনোলজি, মিডিয়া অ্যান্ড টেলিকম সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এনভিডিয়া-এর প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং জানিয়েছেন, ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিক-এ সাম্প্রতিক বিনিয়োগই সম্ভবত তাদের শেষ বিনিয়োগ। তাঁর ভাষ্য, প্রতিষ্ঠান দুটি প্রত্যাশিতভাবে শেয়ারবাজারে এলে এ ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।

হুয়াংয়ের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে এনভিডিয়ার চিপের চাহিদা আকাশচুম্বী। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক—উভয় প্রতিষ্ঠানই তাদের এআই মডেল চালাতে এনভিডিয়ার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি শেয়ার বিনিয়োগের চেয়ে প্রযুক্তি সরবরাহ থেকেই এনভিডিয়া বিপুল আয় করছে।

এর আগে কোম্পানির আয় সংক্রান্ত এক কলে হুয়াং বলেছিলেন, তাদের বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণ ও গভীর করা। অর্থাৎ, যেসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়েছে, তারা যেন এনভিডিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত বাজার তৈরি করে।

গত সেপ্টেম্বরে ওপেনএআই-এ বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় এনভিডিয়া। সে সময় অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একই সঙ্গে ওপেনএআই আবার বিপুল পরিমাণ এনভিডিয়া চিপ কিনবে—এতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সম্পর্ক কিছুটা ঘুরপাক খাচ্ছে কি না। পরে চূড়ান্ত বিনিয়োগের অঙ্ক আগের ঘোষণার তুলনায় কমে আসে।

হুয়াং অবশ্য দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধের গুঞ্জনকে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে এনভিডিয়ার সম্পর্কও নানা কারণে আলোচনায়। প্রতিষ্ঠানটির সিইও দারিও আমোদেই সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের চিপ কোম্পানিগুলোর নীতিকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন। তারও কিছুদিন পর মার্কিন প্রশাসন অ্যানথ্রপিককে কালো তালিকাভুক্ত করে বলে জানা যায়, ফলে ফেডারেল সংস্থা ও সামরিক ঠিকাদারদের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।

অন্যদিকে, ওপেনএআই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে নতুন চুক্তির ঘোষণা দেয়। এই দুই ভিন্নমুখী অবস্থান এআই খাতে প্রতিযোগিতা ও নীতিগত বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে অ্যানথ্রপিকের চ্যাটবট ‘ক্লদ’ অ্যাপ স্টোরের ফ্রি অ্যাপ তালিকায় দ্রুত শীর্ষে উঠে আসে, যা Apple-এর মার্কিন অ্যাপ স্টোরে চ্যাটজিপিটি-কে পেছনে ফেলে দেয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এনভিডিয়া এখন এমন দুই প্রতিষ্ঠানে অংশীদার, যারা কৌশলগতভাবে ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। সম্ভাব্য আইপিও সামনে রেখে নতুন বিনিয়োগ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত তাই কেবল আনুষ্ঠানিক কারণেই নয়, বরং দ্রুত জটিল হয়ে ওঠা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশলও হতে পারে।

এনভিডিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ এআই শিল্পের শক্তির ভারসাম্যে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকে নজর রাখছেন প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন