Tuesday, May 26, 2026

শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন বাড়াতে উদ্যোগের আশ্বাস মাউশি ডিজির


প্রতীকী ছবিঃ মাউশির ডিজি অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের আর্থসামাজিক মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি বলেছেন, মেধাবী তরুণদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে হলে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, সামাজিক অবস্থান ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত মনে করেন—শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়া গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অথচ বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা বাস্তবতার তুলনায় অনেক কম।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক তৈরি করা। আর সে লক্ষ্য পূরণে শিক্ষকদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

মাউশি ডিজি বলেন, “যদি আমরা সত্যিকার অর্থে সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই, তাহলে মেধাবী শিক্ষক প্রয়োজন। আর মেধাবী শিক্ষক ধরে রাখতে হলে তাদের জন্য সম্মানজনক বেতন, সামাজিক মর্যাদা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষ্য, বর্তমান সময়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা প্রমাণ করে অনেকেই শিক্ষকতা পেশায় আসছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয় তখনই, যখন তারা নিজেদের সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন।

তিনি আরও বলেন, “একজন শিক্ষক যেন কারও মুখাপেক্ষী না হন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষক যদি মর্যাদা নিয়ে কাজ করতে পারেন, তাহলে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নিবেদিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।”

শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মাউশি মহাপরিচালক। তিনি জানান, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে শিক্ষা খাতের কাঠামোগত ভারসাম্যের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, কোথাও শিক্ষকের তুলনায় শিক্ষার্থী কম, আবার কোথাও শিক্ষক সংকট রয়েছে। এই বৈষম্য দূর করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত সঠিকভাবে নির্ধারণ করা গেলে শিক্ষা ব্যবস্থায় সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকতা পেশায় নতুন করে আগ্রহ তৈরি হবে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন