- ২৬ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বা বেসিক সর্বনিম্ন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে শতভাগ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবও আলোচনায় আছে। এর ফলে দেশের প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পে কমিশনের প্রাথমিক সুপারিশ অনুযায়ী, চতুর্থ গ্রেডভুক্ত এমপিও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার মূল বেতন বেড়ে প্রায় ৭৫ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। একইভাবে ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হতে পারে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা।
সপ্তম গ্রেডভুক্ত উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান ২৯ হাজার টাকার বেতন বৃদ্ধি পেয়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নবম গ্রেডের প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকার বেতন বাড়িয়ে ৩৩ হাজার টাকা করার আলোচনা চলছে। এছাড়া দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান ১৬ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন হতে পারে।
অন্যদিকে, ১১তম গ্রেডের বিএডবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেতন ৫০ শতাংশ বাড়লে দাঁড়াবে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। আর শতভাগ বৃদ্ধি কার্যকর হলে তারা পেতে পারেন ২৫ হাজার টাকা।
এছাড়া ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরদের বেতন ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হতে পারে ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা। শতভাগ বৃদ্ধি হলে তা ১৮ হাজার ৬০০ টাকায় উন্নীত হতে পারে।
১৮তম গ্রেডের ল্যাব সহকারীদের বর্তমান ৮ হাজার ৮০০ টাকার বেতন বাড়িয়ে ১৩ হাজার ২০০ টাকা করার সম্ভাবনা রয়েছে। আর দ্বিগুণ বৃদ্ধি কার্যকর হলে তা ১৭ হাজার ৬০০ টাকায় পৌঁছাবে।
সবচেয়ে নিচের ধাপে থাকা ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়াদের বেতন বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে তা হবে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং শতভাগ বৃদ্ধি কার্যকর হলে বেতন দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।
তবে পুরো নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। জানা গেছে, আগামী জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেসিক বেতনের অর্ধেক সুবিধা পেতে শুরু করবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বিভিন্ন ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হবে।
এ বিষয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যেহেতু সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন, তাই নতুন নবম জাতীয় পে-স্কেলেও তারা অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৬ হাজার ৯৩টি। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৮ জন।
আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন। সেদিনই নবম পে-স্কেল সংক্রান্ত বরাদ্দ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হতে পারে।