Wednesday, July 1, 2026

‘সেক্রেড গেমস’ থেকে ‘কর্তব্য’: পুলিশ চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার সাইফ আলী খানের


ফাইল ছবিঃ সাইফ আলী খান (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

একসময় এক পরিচালকের কাছ থেকে শুনতে হয়েছিল, পুলিশের চরিত্রে তাকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে না। সেই মন্তব্যে মন ভেঙেছিল সাইফ আলী খানের। তবে সময়ের সঙ্গে নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে সেই ধারণাকেই ভুল প্রমাণ করেছেন বলিউডের এই অভিনেতা।

সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘কর্তব্য’ ছবিতে একজন জটিল ও দ্বিধাগ্রস্ত পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন সাইফ। ছবিটির ট্রেলার উন্মোচন অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ফিরে যান ক্যারিয়ারের শুরুর দিনের একটি স্মৃতিতে।

সাইফ জানান, ‘ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি’ ছবির ক্লাইম্যাক্সে প্রথমবার পুলিশের পোশাক পরেছিলেন তিনি। সেই সময় ছবির পরিচালক তাকে বলেছিলেন, জীবনে যেন আর কখনো সিরিয়াস পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয়ের চেষ্টা না করেন, কারণ ওই পোশাকে তাকে নাকি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য লাগে না।

সেই স্মৃতি তুলে ধরে অভিনেতা বলেন, আজ যখন দর্শক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে তার অভিনয় গ্রহণ করেছেন, তখন বিষয়টি তাকেও বিস্মিত করে। তার বিশ্বাস, একজন শিল্পী যদি ধারাবাহিকভাবে কাজ করেন এবং নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যান, তাহলে একসময় সব ধরনের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করা সম্ভব।

নিজের অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে ‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজের কথা উল্লেখ করেন সাইফ। ওই সিরিজে পুলিশ কর্মকর্তা সরতাজ সিংয়ের চরিত্রে অভিনয় তাকে নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছিল বলে জানান তিনি।

পুলিশ চরিত্র নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিও ব্যাখ্যা করেন অভিনেতা। তার ভাষায়, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ফুটিয়ে তোলার মূল বিষয় ইউনিফর্ম নয়, বরং চরিত্রটির মানবিক দিককে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। তবে পুলিশের পোশাক দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের একটি আলাদা অনুভূতি তৈরি করে, সেটিও অভিনয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন তিনি।

নতুন ছবি ‘কর্তব্য’ নিয়ে সাইফের উচ্ছ্বাসের কারণও আলাদা। তিনি বলেন, এই ছবি তাকে একেবারে সাধারণ একজন মানুষের চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের সুযোগ দিয়েছে। তার মতে, একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো ভিন্নধর্মী চরিত্রে পরিচালকের আস্থা অর্জন করা।

নিজের ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের কথা বলতে গিয়ে ‘ওমকারা’ ছবির ল্যাংড়া ত্যাগী চরিত্রের প্রসঙ্গ তোলেন সাইফ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দর্শক তাকে শহুরে ও অভিজাত ইমেজের অভিনেতা হিসেবে দেখেছেন। তাই বিশাল ভরদ্বাজ কেন তাকে সেই চরিত্রে বেছে নিয়েছিলেন, তা আজও তার কাছে বিস্ময়ের। তবে ওই সিদ্ধান্তই তার অভিনয়জীবনের ধারা বদলে দেয় এবং দর্শক তাকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে শুরু করেন।

সাইফের মতে, চলচ্চিত্র অঙ্গনে অনেক সময় শিল্পীদের একটি নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দেখা হয়। সেই গণ্ডি ভেঙে নিজেকে বারবার নতুনভাবে উপস্থাপন করাই একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

‘কর্তব্য’ ছবিতে তার হরিয়ানভি উচ্চারণও ইতোমধ্যে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু সংলাপ মুখস্থ করলেই হয় না; ভাষার সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, আবেগ এবং কথার ছন্দও আয়ত্ত করতে হয়। দীর্ঘ অনুশীলনের পর তিনি চরিত্রটির ভাষা স্বাভাবিকভাবে রপ্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র পবন সিং সম্পর্কে সাইফ বলেন, চরিত্রটি প্রতিনিয়ত নিজের নৈতিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে লড়াই করে। কোন সিদ্ধান্ত সঠিক, কাকে রক্ষা করবে কিংবা কোন পথ বেছে নেবে—এসব প্রশ্নই তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। এ কারণেই ছবিটি তার কাছে বাস্তবধর্মী ও ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে।

ব্যক্তিজীবনের প্রসঙ্গেও খোলামেলা কথা বলেন এই অভিনেতা। তিনি জানান, পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। সন্তানদের সময় দেওয়া, তাদের বেড়ে ওঠার পাশে থাকা এবং পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করার চেষ্টা সবসময়ই করেন তিনি।

একজন শিল্পীর দায়িত্ব সম্পর্কে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সাইফ বলেন, পর্দায় কোনো চরিত্রকে সততা ও বাস্তবতার সঙ্গে তুলে ধরাই একজন অভিনেতার মূল দায়িত্ব। পাশাপাশি বর্তমান সময়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, এটি এখন শুধু একটি দেশের নয়, গোটা বিশ্বেরই একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন