Monday, June 22, 2026

রুপালি পর্দা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে: জন্মদিনে থালাপতি বিজয়ের উত্থানের গল্প


ফাইল ছবিঃ থালাপতি বিজয় (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী—চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়ের যাত্রা নিঃসন্দেহে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। অভিনয়, জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক উত্থান এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা আলোচনা মিলিয়ে তিনি এখন ভারতের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিত্বদের একজন। ২২ জুন তার জন্মদিন উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক তার জীবন ও ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়গুলো।

চলচ্চিত্র পরিবারের সন্তান বিজয়ের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সিনেমার আবহেই। তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর ছিলেন তামিল চলচ্চিত্রের পরিচিত নির্মাতা। শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু হলেও ধীরে ধীরে নিজের মেধা ও পরিশ্রমে তিনি দক্ষিণ ভারতের অন্যতম শীর্ষ তারকায় পরিণত হন।

১৯৯০-এর দশকে অভিনয়জীবন শুরু করলেও ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ঘিল্লি’ সিনেমা তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমার মাধ্যমে তিনি দর্শকদের কাছে ‘মাস হিরো’ হিসেবে পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে তার চলচ্চিত্রে সামাজিক বৈষম্য, দুর্নীতি, কৃষক সংকট ও তরুণদের সমস্যা উঠে আসতে থাকে, যা তাকে শুধু বিনোদন তারকা নয়, সামাজিক বার্তার বাহক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করে।

বিশ্বব্যাপী বিপুল দর্শকপ্রিয়তার কারণে বিজয়ের সিনেমাগুলো নিয়মিতভাবে শত শত কোটি রুপির ব্যবসা করেছে। ‘লিও’ এবং ‘দ্য গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’-এর মতো সিনেমাগুলোর সাফল্য তার জনপ্রিয়তার ব্যাপ্তি আরও স্পষ্ট করে।

অভিনয়ের পাশাপাশি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন বিজয়। বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে বক্তব্য, ভক্তদের সংগঠিত করা এবং জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করেন। শেষ পর্যন্ত পূর্ণ সময় রাজনীতিতে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে চলচ্চিত্রজীবনের ইতি টানার ঘোষণা দেন।

বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘জন নায়গন’কে তার অভিনয়জীবনের শেষ সিনেমা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিনেমাটির গল্প ও সংলাপে রাজনৈতিক বার্তার উপস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, বিজয়ের সম্পদের পরিমাণ কয়েকশ কোটি রুপি। স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক আমানত, জমি এবং বিলাসবহুল গাড়ির মালিকানা তাকে ভারতের ধনী অভিনেতা-রাজনীতিবিদদের তালিকায় স্থান দিয়েছে।

তবে সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনও এসেছে আলোচনায়। সাম্প্রতিক সময়ে তার দাম্পত্য জীবন নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিজয় প্রকাশ্যে তেমন কোনো মন্তব্য করেননি।

একসময় যিনি ছিলেন শুধুই জনপ্রিয় অভিনেতা, আজ তিনি একটি রাজ্যের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বে। অভিনয়ের মঞ্চ থেকে রাজনীতির ময়দানে বিজয়ের এই রূপান্তর দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন