Wednesday, July 1, 2026

সাইবার সুরক্ষা আইন পাস, ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না করার আহ্বান বিরোধীদের


ফাইল ছবিঃ জাতীয় সংসদ অধিবেশন (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

সাইবার স্পেসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার বন্ধের দাবি তুলেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে কার্যকর আইন প্রয়োজন হলেও সেটি যেন কোনোভাবেই ভিন্নমত দমন বা রাজনৈতিক হয়রানির হাতিয়ার হয়ে না ওঠে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিলের ওপর আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। আলোচনা শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর বিলটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশোধিত আইনে সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। এতদিন এই ধারায় অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধ ও শাস্তির বিধান ছিল। সরকার জানিয়েছে, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে পৃথক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে অপরাধের সংজ্ঞা ও শাস্তির বিধান আরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে একই বিষয় সাইবার সুরক্ষা আইনে রাখার প্রয়োজন নেই।

বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, জনপরিচিত ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিনিয়ত সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার এবং ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে মানুষের সম্মানহানি করার প্রবণতাও বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিশেষ করে রাজনীতি ও গণমাধ্যমে কর্মরত নারীদের জন্য অনলাইন পরিবেশ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তাই নারীদের জন্য নিরাপদ সাইবার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে বিরোধী মতের মানুষের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, অতীতে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও বিরোধী মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সাইবার আইন ব্যবহার করে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

একই দলের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম বলেন, সাইবার অপরাধ দমন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা জরুরি। তবে সেই সঙ্গে নাগরিকের বাক্‌স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারও সমানভাবে সংরক্ষিত থাকতে হবে।

জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুয়া তথ্য এবং এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে শক্তিশালী আইন প্রয়োজন। তবে সেই আইন যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, নারীদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে মানুষের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। তাই আইনটির নিরপেক্ষ ও সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য, গুজব, মানহানিকর কনটেন্ট, চরিত্রহনন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো অপরাধ মোকাবিলায় সরকার পৃথক উদ্যোগ নিচ্ছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ভবিষ্যতে নতুন সংশোধনী বা আইন আনা হবে বলে তিনি জানান।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন