Thursday, February 5, 2026

সাত সরকারি কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত


প্রতীকী ছবিঃ সাত সরকারি কলেজ (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

দীর্ঘদিনের আলোচনা, বিতর্ক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ঢাকার সাতটি বড় সরকারি কলেজকে নিয়ে নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের লক্ষ্যে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অধ্যাদেশ জারি হলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ এই সাতটি প্রতিষ্ঠান ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক কার্যক্রমও চালু থাকবে। এত দিন এসব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল।

বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাদেশের মূল দিকগুলো জানায়।

প্রেস উইং জানায়, সাতটি কলেজকে একটি অভিন্ন একাডেমিক কাঠামোর আওতায় এনে উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। নতুন ব্যবস্থায় কলেজগুলোর নিজস্ব নাম, অবকাঠামো ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর অধিকার বহাল থাকবে।

২০১৭ সালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া কলেজগুলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। এরপর থেকে প্রশাসনিক ও একাডেমিক জটিলতা বাড়তে থাকে। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে গত বছরের জানুয়ারিতে এসব কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সরকার একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের উদ্যোগ নেয়, তবে প্রাথমিক খসড়া নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে আন্দোলন শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে খসড়া পরিমার্জন করে এবার অনুমোদন দেওয়া হলো।

অনুমোদিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো থাকবে। রাষ্ট্রপতি আচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দায়িত্ব পালন করবে।

একাডেমিক কাঠামোয় কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও চারুকলাসহ একাধিক ‘স্কুল’ থাকবে, যার প্রতিটির নেতৃত্ব দেবেন একজন হেড অব স্কুল। সংযুক্ত কলেজগুলোয় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন অভিন্ন সময়সূচি ও কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিধান রাখা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত রাজধানীতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি আধুনিক, সমন্বিত ও গবেষণাভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং সাত কলেজের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন