- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
সমুদ্র সংরক্ষণ, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং টেকসই ব্লু ইকোনমি গড়ে তুলতে জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের (এসপিএফ) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা)।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই এমওইউতে স্বাক্ষর করেন মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অধীন ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ওপিআরআই) সভাপতি অধ্যাপক মিতসুতাকু মাকিনো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসপিএফের সভাপতি ড. আতসুশি সুনামি আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি অনুমোদন করবেন বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সমুদ্র বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলেও দূষণের কারণে এটি আজ বড় ধরনের হুমকির মুখে। গভীর সমুদ্রেও প্লাস্টিক বর্জ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে সমুদ্রকে পরিচ্ছন্ন ও সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা করা আমাদের জন্য অপরিহার্য। সামুদ্রিক গবেষণায় সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক সুনাম রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা সহযোগিতা শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটও এই গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে।
এমওইউর আওতায় মহেশখালীতে তিনটি গ্রামকে ‘মডেল ফিশিং ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানের ‘উমিগিও’—সামুদ্রিক শিল্পভিত্তিক কমিউনিটি উন্নয়ন ধারণা অনুসরণ করে এসব গ্রাম উন্নয়ন করা হবে।
উপকূলীয় উন্নয়ন ও কৌশলগত অবকাঠামো নির্মাণে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হিসেবে মিডা, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে মৎস্য ও সামুদ্রিক খাতে সরকারের জাতীয় অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কাজ করবে। এ খাতের নীতিনির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ২০টিরও বেশি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বড় স্বাধীন দাতব্য সংস্থা সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে সামুদ্রিক নীতি, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে কাজ করে আসছে।
চুক্তি অনুযায়ী, দুই পক্ষ যৌথভাবে জাপানের ব্লু ইকোনমি মডেল অনুসরণ করে সামুদ্রিক চাষ, মৎস্য ব্যবস্থাপনা, মাছের পরবর্তী প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং জেলে জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করবে।
এ ছাড়া উপকূলীয় জীবিকাভিত্তিক উন্নয়ন, সমুদ্রে নিরাপত্তা, কমিউনিটি-ভিত্তিক সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জেলে সম্প্রদায় ও সরকারের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হবে।
সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মৎস্যসম্পদ ও উপকূলীয় পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক গবেষণা। পাশাপাশি জেটি নির্মাণ, আধুনিক মাছ অবতরণ কেন্দ্র, কোল্ড-চেইন ও পরিবহন ব্যবস্থা, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এমওইউর আওতায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, মাছ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক চাষ, উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগ সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রে নিরাপত্তা, মাননিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যবিধি এবং শ্রমমান উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।