- ০৪ মার্চ, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ব্যাংক খাতে চলমান একীভূতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক–এর নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ আদায়ে সব ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়ম অনুসরণ করে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর এ নির্দেশনা দেন। প্রশাসকরা সবাই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল একীভূত ব্যাংকগুলোর প্রশাসকদের সঙ্গে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। এর আগে সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণসহ বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। নতুন নেতৃত্বে সেই সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা থাকবে বলে বৈঠকে স্পষ্ট করা হয়।
সভা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একীভূতকরণের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর গভর্নর আমানত বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ এবং ঋণজটে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো নিয়মের আওতায় পুনরায় চালুর ওপর জোর দেন। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি শিগগিরই একীভূত ব্যাংকের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
একীভূতকরণের আওতায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো—Union Bank, First Security Islami Bank, Global Islami Bank, Social Islami Bank এবং EXIM Bank। এ পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে নতুন কাঠামো গঠন করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে রাজধানীর মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে নতুন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় চালু হয়েছে। সরকার চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দুর্বল ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি কমবে এবং আর্থিক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।