- ০৪ মার্চ, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পসহ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর বকেয়া নগদ সহায়তার বিপরীতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়ের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও উৎসব বোনাস পরিশোধের বাড়তি চাপের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত শিল্প মালিকদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নগদ সহায়তার অর্থ ছাড় হওয়ায় রপ্তানি খাতে চলমান তারল্য সংকট অনেকটাই কমবে।
বিজিএমইএ সূত্র জানায়, বকেয়া সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড়ের দাবিতে সংগঠনের নেতারা সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই দ্রুত তহবিল অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় কিস্তির প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার কোটি টাকা—মোট ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ তাদের সদস্য কারখানাগুলোকে নিজ নিজ লিয়েন ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অর্থ ছাড় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে কাঁচামাল আমদানি, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা সামাল দিতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মালিকপক্ষের ধারণা, ঈদের আগে অর্থ হাতে এলে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা কমবে এবং উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও নতুন গতি আসবে বলে তারা আশা করছেন।
বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা থাকলেও রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা সময়মতো পাওয়া শিল্পের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।