Thursday, June 4, 2026

২৭ মাস পর বিদ্যুতের খুচরা দাম বাড়ল, গড় বৃদ্ধি ১৬.৬৮ শতাংশ


ফাইল ছবিঃ বিদ্যুতের খাম্বা (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

দেশে দীর্ঘ ২৭ মাস পর বিদ্যুতের খুচরা দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল ১০ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই দর ঘোষণা করে, যা চলতি জুন মাসের ১ তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী পাইকারি বিদ্যুৎ ও সঞ্চালন মাশুলও সমন্বয় করা হয়েছে।

বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, এক ধাপে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পরিমাণ। যদিও শতকরা বৃদ্ধির হিসেবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, আবাসিক, শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্যিক—সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপরই এর প্রভাব পড়বে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ৫ টাকা ৩২ পয়সা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কিছু অস্থায়ী গ্রাহকের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি দাম ২৩ টাকা ৮১ পয়সায় পৌঁছেছে।

আবাসিক খাতে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবহারভেদে ১৫ শতাংশ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি খরচ গুনতে হবে গ্রাহকদের। ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের মাসিক বিল কিছুটা বাড়লেও বড় ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি আরও বেশি হবে।

নতুন দর অনুযায়ী ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের মাসিক বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে ভ্যাটের পরিমাণও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।

শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতেও বিদ্যুতের খরচ বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অফিস এবং উচ্চচাপ শিল্প ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি বিভিন্ন ধাপে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে পিক আওয়ার ও অফ-পিক আওয়ার অনুযায়ী আলাদা মূল্যহার প্রযোজ্য হবে।

কৃষি খাতে সেচ ব্যবস্থার বিদ্যুৎ বিলও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাস্তার বাতির বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচও নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, বিদ্যুতের পাইকারি দামও গড়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সঞ্চালন মাশুল প্রায় ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৯ পয়সা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নতুন দর কার্যকর হলেও বিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পাইকারি দর সমন্বয়ের পরও বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি সরকারের দিতে হতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে, যার প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্য, কৃষি উৎপাদন ও শিল্প খাতে। এতে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন