- ০৫ মার্চ, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হির্স।
বুধবার Al Jazeera-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে Ed Hirs বলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। এই রুট দিয়ে প্রবাহিত তেলের অর্ধেকও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি নজিরবিহীন চাপে পড়বে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নৌ নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় তেলবাহী জাহাজ চলাচলও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চের শুরু পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত বেড়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে ব্যারেলপ্রতি ১১ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাম ৮৩ ডলারের ঘরে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়ায় এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হির্স জানান, প্রভাব শুধু তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাজারেও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। সামরিক অভিযানের পরপরই এলএনজির দামে বড় উল্লম্ফন দেখা যায় এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য স্বল্প সময়ের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ডিজেলের দামও বাড়তির দিকে।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। ইরাকের বসরায় অবস্থিত রুয়াইলা তেলক্ষেত্র-এ রপ্তানি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় উৎপাদন কমানোর খবর পাওয়া গেছে। সরবরাহে এমন বিঘ্ন দীর্ঘস্থায়ী হলে এশিয়া ও ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশগুলোতে জ্বালানি নির্ভর উৎপাদন খাত বড় সংকটে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রশাসনের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে জ্বালানি নির্ভর অঙ্গরাজ্যগুলোতে মূল্যস্ফীতি বাড়লে জনঅসন্তোষ তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা না গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার মুখে পড়বে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।