- ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১০ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীরা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি-এর সদস্য।
সাংবাদিক সমিতির অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতের এ ঘটনায় একটি ‘মব’ তৈরি করে হামলা চালানো হয় এবং এর জন্য ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সমিতির তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি ও সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলামসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক। তাঁদের কেউ কেউ চিকিৎসা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্য, একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির খবর পেয়ে তারা শাহবাগ থানায় গেলে প্রথমে ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় প্রতিবাদ জানালে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে আরও কিছু ব্যক্তি জড়ো হয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার সময় বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন এবং উত্তেজনাকর স্লোগান দেওয়া হয়। তারা দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের একজন নেতা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির ফল হতে পারে এবং ভিডিও ফুটেজে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
এদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক ফেসবুক পোস্টে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা আহত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক সমিতি তিন দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, জড়িত শিক্ষার্থীদের একাডেমিকভাবে বহিষ্কার এবং সারা দেশে সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
ঘটনার বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চেষ্টা চালিয়েছে। তবে হঠাৎ ভিড় বেড়ে যাওয়ায় সবকিছু সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সাংবাদিক সমিতি জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতিও চলছে বলে জানা গেছে।