Saturday, April 25, 2026

সংস্কার, অর্থনীতি ও সুশাসনে দ্রুত পদক্ষেপের তাগিদ আইসিজির


ফাইল ছবিঃ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) বলেছে, নতুন সরকারের শুরুতেই অর্থনীতি, সুশাসন ও নিরাপত্তা খাতে কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার পরিবেশ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের নতুন সরকার কাজে নেমে পড়েছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আইসিজি উল্লেখ করে, দীর্ঘ সময়ের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, নতুন সরকার সেই জনসমর্থনকে স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণযোগ্যতায় রূপ দিতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন সরকারকে একই সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং বিরোধী শক্তির ভবিষ্যৎ ভূমিকা—এই সবকটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবও দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে।

আইসিজি মনে করে, রাজনৈতিক সংস্কার ইস্যু সামনে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করতে পারে। যদিও ক্ষমতাসীন দল কিছু সংস্কার প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে, তবুও সংবিধান সংশোধন ও কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়। এতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে এবং তা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, দলটিকে দীর্ঘ সময় রাজনীতির বাইরে রাখা হলে তা উল্টো অস্থিরতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো পর্যালোচনা করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আইসিজি আরও বলেছে, বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং যেসব ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি নন, তাঁদের জামিন দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে বাহিনীর পেশাদারিত্ব বাড়ানো এবং জনআস্থা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা, নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

আইসিজি সতর্ক করে বলেছে, সরকার যদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশে পুনরায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই শুরু থেকেই দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন