Monday, January 19, 2026

রপ্তানি স্থবিরতায় বাড়ছে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি, চাপের মুখে বৈদেশিক লেনদেন


প্রতীকী ছবিঃ বাংলাদেশ ব্যাংক (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

রপ্তানি আয়ের গতি কমে যাওয়ায় চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শুরুতেই দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি আবারও বাড়তির দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই–নভেম্বর) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে দেশে আমদানির পরিমাণ বেড়েছে, অথচ রপ্তানি আয় প্রায় স্থবির রয়েছে। ফলে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান আরও প্রশস্ত হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ প্রায় ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে মাত্র ১৮ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় খুব সামান্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের উচ্চ মূল্য, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল থাকায় রপ্তানি প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। বিপরীতে শিল্প ও ভোগ্যপণ্যের আমদানি কমানো যাচ্ছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাণিজ্য ঘাটতিতে।

পণ্য বাণিজ্যের এই নেতিবাচক প্রবণতার প্রভাব পড়েছে চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও। চলতি অর্থবছরের নভেম্বর শেষে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। সাধারণত চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকলে বৈদেশিক ঋণের চাপ কম থাকে, কিন্তু ঘাটতি বাড়লে সরকারের ওপর ঋণনির্ভরতা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তবে সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের হিসাবে কিছুটা ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে। নভেম্বর পর্যন্ত দেশের ওভারঅল ব্যালান্স উদ্বৃত্ত রয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতিতে ছিল। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রবাসী আয়।

চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে সহায়ক হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই–নভেম্বর সময়ে বাংলাদেশে প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের এফডিআই এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি।

তবে বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে পুঁজিবাজারে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার থেকে নিটভাবে অর্থ তুলে নিচ্ছেন, ফলে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ নেতিবাচক ধারায় রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ জোরদার করা না গেলে পণ্য বাণিজ্য ও চলতি হিসাবের ঘাটতি আগামী মাসগুলোতে আরও চাপে ফেলতে পারে দেশের অর্থনীতিকে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন