Saturday, March 7, 2026

রমজানের মাঝামাঝিতে মুরগির দামে ঊর্ধ্বগতি, কিছু সবজিতে মিলেছে স্বস্তি


ছবিঃ মুরগি (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট PNN

রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে আবারও ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে চিনি, পোলাওয়ের চাল ও কিছু মসলার দামও বেড়েছে। তবে ইফতারির কয়েকটি সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও যার দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। সোনালি মুরগির দামও বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৭০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।

বিক্রেতারা বলছেন, শীতকালে খামারে মুরগির মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। এর সঙ্গে রমজান মাসে চাহিদা বাড়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। তবে ডিমের বাজারে আপাতত স্থিতিশীলতা রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চিনির বাজারেও কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেছে। খোলা চিনি প্রতি কেজি ১০০ টাকা এবং মোড়কজাত চিনি ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেশি। পাইকারি বাজারেও প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় প্রায় ৩০০ টাকা দাম বেড়েছে।

পোলাওয়ের চালের দামও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে ক্রেতাদের ওপর। খোলা চিনিগুঁড়া চাল ব্র্যান্ডভেদে কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় এবং মোড়কজাত চাল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগের তুলনায় এসব চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে সাধারণ চালের দাম গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে মসলার বাজারেও দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আলুবোখারার দাম কেজিতে প্রায় ২৫০ টাকা বেড়ে এখন এক হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া জিরা ও কিশমিশের দাম কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা এবং কাঠবাদাম ও কাজুবাদামের দাম প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এদিকে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক দোকানে সংকট দেখা গেছে।

তবে সবজি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রমজানের শুরুতে চড়া দামে বিক্রি হওয়া লেবুর দাম এখন হালিপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ টাকায় নেমে এসেছে। শসা, বেগুন ও কাঁচা মরিচের দামও কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কমেছে। বর্তমানে শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে এখন ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে রয়েছে।

তবে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওঠানামায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। অনেকের মতে, মাছ ও গরুর মাংসের উচ্চ দামের কারণে মুরগিই ছিল প্রধান ভরসা। কিন্তু মুরগির দামও বারবার বাড়তে থাকায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন