- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি ও সারের আমদানি বাড়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসেই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ব্যালান্স অব পেমেন্টস (বিওপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭.৫ বিলিয়ন ডলারে, যা এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ঘাটতি ছিল ৫.৭ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, এই চার মাসে দেশের মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২.১১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৫ শতাংশ বেশি। বিপরীতে একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৪.৫ বিলিয়ন ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই বড় ব্যবধানের ফলেই বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গত এক বছরের বেশির ভাগ সময় মাসিক আমদানি ৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকলেও গত অক্টোবর মাসে তা বেড়ে প্রায় ৫.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এতে সামগ্রিক বাণিজ্য ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই সময়ে আমদানি বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ ছিল জ্বালানি তেল ও সারের আমদানি বৃদ্ধি এবং রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাড়তি আমদানি। রমজানে চাহিদা বেশি থাকায় সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বিপুল পরিমাণে ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সয়াবিন তেল আমদানি বেড়েছে ৩৬ শতাংশ, চিনি ১১ শতাংশ, মসুর ডাল ৮৭ শতাংশ, ছোলা ২৭ শতাংশ, মটর ডাল ২৯৪ শতাংশ এবং খেজুর ২৩১ শতাংশ। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল ও সারের আমদানি বেড়েছে যথাক্রমে ৫০ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ।
বাণিজ্য ঘাটতির প্রভাব পড়েছে দেশের চলতি হিসাবেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই–অক্টোবর সময়ে চলতি হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৪৯ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬৪০ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি থাকলেও বাড়তি আমদানি ব্যয়ের কারণে চলতি হিসাব ঘাটতিতে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রবাসী আয় বেড়ে ১০.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৮.৯ বিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্স এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়লেও বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধিই সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।