Monday, January 12, 2026

রেমিট্যান্সের জোরে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ক্রয় ছাড়াল ৩ বিলিয়ন ডলার


প্রতীকী ছবিঃ বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডলার (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাজার থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ শক্তিশালী থাকায় ডলারের সরবরাহ বেড়েছে, যার সুযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ডলার সংগ্রহ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ক্রয়ের মূল উদ্দেশ্য দুইটি টাকার বিপরীতে ডলারের দর স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী করা। বাজারে ডলারের দাম কমে গেলে আমদানিতে স্বস্তি আসতে পারে, তবে রেমিট্যান্সের গতি ধরে রাখা ও রপ্তানি আয়ের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখার স্বার্থে ডলার কেনার নীতি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট (গ্রস) রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান।

রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২৭ দিনেই প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৭৫ কোটি ডলার। অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১ হাজার ৫৭৯ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি।

গত অর্থবছরে বাংলাদেশ রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড গড়ে, যখন মোট প্রবাসী আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এই ধারাবাহিক শক্তিশালী প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে রপ্তানি আয়ে গতি তুলনামূলকভাবে কম। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে এক শতাংশেরও কম। বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি আয়ের এই ধীরগতি ডলার কেনার সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

এর আগে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ডলার বাজারে চাপ তৈরি হয়। আমদানি ব্যয় মেটাতে তখন রিজার্ভ থেকে বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করতে হয়, যার ফলে রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং ডলারের দাম ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। সেই সময় ডলারের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

বর্তমানে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর প্রায় ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে এবং ডলার প্রাপ্তিতেও তেমন সমস্যা নেই। এর ইতিবাচক প্রভাব আমদানি ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর পড়ছে। গত নভেম্বর শেষে দেশে মূল্যস্ফীতির হার নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে মোট ৩০৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিপরীতে বাজারে ছাড়া হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। শুধু ডিসেম্বর মাসেই প্রায় ৯২ কোটি ডলার কেনা হয়েছে, যার বিপরীতে বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে ১১ হাজার কোটির বেশি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ বজায় থাকলে এবং রপ্তানি আয় ধীরে ধীরে বাড়লে ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন