- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা এস এম মাহবুব আলম জানান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে পরীক্ষার তারিখ বা সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন এলে তা আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এসব তথ্যকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে জানায়, পরীক্ষা স্থগিত হচ্ছে না এবং ২ জানুয়ারিই অনুষ্ঠিত হবে।
অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর লিখিত পরীক্ষা আগামী ২ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে। পরীক্ষা দেশের সব জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।
গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ডাউনলোড কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আবেদনকারীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড অথবা এসএসসির রোল, বোর্ড ও পাশের সাল ব্যবহার করে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারছেন। পরীক্ষার দিন রঙিন প্রিন্ট করা প্রবেশপত্র এবং মূল জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, বই, নোট বা অন্য কোনো কাগজপত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ সামগ্রীসহ কেন্দ্রে প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের যেকোনো ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘হিসাব সহকারী’ পদের একটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ালেও কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে এই পরীক্ষার সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।