- ২২ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাদে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা। একই সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারের ভর্তুকি ও উন্নয়ন সহায়তাসহ মোট নিট আর্থিক সহায়তা বেড়ে প্রায় ৮৮ হাজার ২০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশের সমান।
‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মদক্ষতা ও আর্থিক ঝুঁকি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান লোকসান সরকারি অর্থ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাচ্ছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অর্থ বিভাগ ও বিশ্বব্যাংক। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই)।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সবচেয়ে বেশি লোকসান হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। শুধু বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) একাই গত অর্থবছরে ৪৪ হাজার ৪০০ কোটির বেশি লোকসান করেছে। উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্ষমতা ভাড়া প্রদান এবং উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম ট্যারিফ নির্ধারণকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ–সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিক লোকসানের মধ্যে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
গবেষণায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের ঘাটতিকেও বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি, অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক স্বচ্ছতার অভাবকে খারাপ পারফরম্যান্সের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আঞ্চলিক তুলনাও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদে মুনাফার হার ছিল ঋণাত্মক ৫ দশমিক ২ শতাংশ। যেখানে ভারতে এ হার ৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ভিয়েতনামে প্রায় ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।
গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে, লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন, পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, আর্থিক তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমাতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা এবং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন নেই—এমন প্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে বেসরকারিকরণ বা বন্ধ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা সুরাইয়া জান্নাত এবং পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশীদ আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।