- ২৫ অক্টোবর, ২০২৫
PNN নিউজ ডেস্ক | ঢাকা:
রাজধানী ঢাকার বাজারে ভোজ্য তেল, ডিম এবং সবজির দাম বেড়েছে, যা নাগরিকদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে সয়াবিন এবং পামঅয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডিমের দামও গত এক সপ্তাহে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবজির দাম কিছুটা কমলেও আবারো তা বাড়তে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজার, শান্তিনগর এবং তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দামের এই চিত্র পাওয়া গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখনও সয়াবিন এবং পামঅয়েলের দাম বাড়ানোর অনুমোদন না দিলেও, খুচরা বাজারে দাম প্রতি লিটার দুই টাকা বেড়েছে। সয়াবিনের ৫ লিটারের বোতল ৯১০ থেকে ৯৩০ টাকা, আর ১ লিটার সয়াবিনের দাম ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে, পামঅয়েলের দামও দুই টাকা বেড়ে ১৫৫ থেকে ১৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, ডিমের দাম গত এক সপ্তাহে ৮ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন বাদামি রঙের ডিম ১৪৮ থেকে ১৫০ টাকা এবং সাদা রঙের ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবজি ও মাছের দাম বেশি হওয়ায় ডিমের চাহিদা বেড়েছে, যার কারণে দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ব্রয়লার এবং সোনালি মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিমের দাম বাড়ানোর বিষয়ে রাজধানীর তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহ জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে সবজির দাম বাড়ায় ডিমের চাহিদা বেড়েছে। তবে, তিনি আশা করছেন, শিগগিরই সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে ডিমের দাম কমবে।
চট্টগ্রামের খামারি মো. তফাজ্জল হোসেন জানান, ডিমের সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় ডিমের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, "যদি খামারিরা সরাসরি ঢাকায় ডিম বিক্রি করতে পারতেন, তাহলে তারা উপকৃত হতেন এবং ভোক্তাও কম দামে ডিম পেতেন।"
সবজির বাজারে স্বস্তি নেই। কিছুদিন আগেই দাম কিছুটা কমেছিল, কিন্তু এখন বেশ কিছু সবজির দাম আবার বেড়ে গেছে। পটোল, বেগুন, করলা, কাঁকরোল এবং অন্যান্য সবজির দাম বেড়েছে। শিম এবং ফুলকপি, বাঁধাকপি এখন বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। শিমের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া, মাছের দামও চড়া। চাষের মাছের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, নদীর মাছের দাম আকাশছোঁয়া। বোয়াল, কোরাল, আইড়, তেলাপিয়া, পাঙাশ, চিংড়ি, শিং, শোলসহ বিভিন্ন মাছের দাম অনেক বেশি। বিশেষ করে চিংড়ি এবং অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের দাম ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে নিত্যপণ্যের এই অস্থিরতা গ্রাহকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং খামারিরা জানিয়েছেন, বাজারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহ বাড়ানো গেলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।