Monday, January 19, 2026

রাবিতে হল ফি জমার অনলাইন সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা


প্রতীকী ছবিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। রাজশাহী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আবাসিক হলের বিভিন্ন ফি পরিশোধ করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অনলাইন পদ্ধতি বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে তাদের। এ পরিস্থিতির জন্য একদিকে আইসিটি সেন্টারের দিকে আঙুল তুলছে হল প্রশাসন, অন্যদিকে সেই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে আইসিটি কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেমিস্টার পরীক্ষার আগে আবাসিক শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন ফি, ক্রীড়া ফি, লাইব্রেরি ফি, ইন্টারনেট ফি ও অন্যান্য খাতে নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে প্রথম বর্ষের অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের এককালীন একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হয়। আগে এসব ফি একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হতো।

পরবর্তীতে ‘ই-রেজাল্ট অটোমেশন’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে ফি আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা জটিলতায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর সেই দায়িত্ব থেকে সরে আসে। পরে হল প্রশাসনের হাতে দায়িত্ব ফিরলে তারা একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আলাদা আলাদা ফি জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। ফলে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

এ নিয়ে রাবি ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, অনলাইন ফি জমার ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার পেছনে আইসিটি সেন্টারের অপারগতা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলেও আইসিটি সেন্টারের পরিচালক পদে বহাল রয়েছেন।

এ বিষয়ে আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ছাইফুল ইসলাম স্পষ্টভাবে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হল ফি অনলাইনে নেওয়ার বিষয়টি আইসিটি সেন্টারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহবায়ক তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি। বরং পরে ফোনে কথা হলে সংশ্লিষ্ট প্রভোস্ট ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, হল প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহবায়ক ও মন্নুজান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আসিয়ারা খাতুন বলেন, গত বছর অটোমেশন পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা সহজেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে পেরেছিলেন। তবে চলতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সেই ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছে। কেন এটি বন্ধ করা হয়েছে—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, দুর্নীতি ঠেকানোর কথা উল্লেখ করে আইসিটি দপ্তর থেকে তাকে জানানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, তিনি হল প্রশাসনের কাছ থেকে যে তথ্য পেয়েছেন, সেটির ভিত্তিতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে পরে জানতে পেরেছেন, আইসিটি সেন্টারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নাও থাকতে পারে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আবার কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, দায়-দায়িত্ব নিয়ে প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের খেসারত দিতে হচ্ছে তাদেরই। দ্রুত অনলাইন পদ্ধতি চালু না হলে সামনে পরীক্ষার সময় আরও বড় ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন তারা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন