- ০২ এপ্রিল, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দীর্ঘ ছয় বছরের স্থবিরতার পর অবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪টি বিভাগে মোট ১৫৪ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট কাটার সম্ভাবনা তৈরি হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর নতুন নীতিমালার আওতায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম ভাইভা বোর্ডের মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়।
নতুন নিয়োগে ইতিহাস, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, অর্থনীতি, আইন, কম্পিউটার সায়েন্সসহ বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক যুক্ত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হয়েছে, যা অতীতের তুলনায় অধিক কাঠামোবদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক।
তবে নিয়োগকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। অভিযোগ উঠেছে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারীদের প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং স্বজনপ্রীতির ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলন ও অনশনের মতো কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।
বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে বিভিন্ন বিভাগের সভাপতিরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ এবং সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছে। তারা জানান, লিখিত পরীক্ষা, কোডিং-ডিকোডিং পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়ন এবং একাধিক ধাপের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা করা হয়নি। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে শিক্ষক নিয়োগ জরুরি ছিল এবং সে লক্ষ্যেই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নতুন শিক্ষক নিয়োগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন শিক্ষক সংকটের কারণে ক্লাস ও গবেষণায় যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কাটবে বলে আশা করছেন তারা।
সব মিলিয়ে, নিয়োগকে ঘিরে বিতর্ক থাকলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।