- ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটের পরিচিতিমূলক সাইনবোর্ড সরিয়ে নিয়েছেন কর্মীরা। ইসরায়েলের বেঁধে দেওয়া কনস্যুলেট বন্ধের সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনে বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাংবাদিকেরা বৃহস্পতিবার কনস্যুলেট ভবন থেকে ‘ব্রিটিশ কনস্যুলেট জেনারেল’ লেখা একটি ফলক এবং কনস্যুলার বিভাগের আরেকটি সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য দেখেছেন। তবে ভবনটির ওপর যুক্তরাজ্যের পতাকা তখনও উড়তে দেখা যায়।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার কনস্যুলেটটি বন্ধের নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার ছিল ওই নির্দেশ জারির ৩০তম দিন। অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞাসহ যুক্তরাজ্যের একাধিক নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে বিবেচনা করে। তবে ইসরায়েল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়।
কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের অসমর্থিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমে কনস্যুলেট বন্ধ করা হলে যুক্তরাজ্য ২৭ জন ইসরায়েলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করতে পারে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কনস্যুলেটটি চালু রাখার জন্য যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। গত সপ্তাহেও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে আলোচনার জন্য ইসরায়েলে পাঠানো হয়। তবে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাহ এলাকায় অবস্থিত এই কনস্যুলেটের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও অনেক আগে থেকে সেখানে ব্রিটিশ উপস্থিতি রয়েছে। কনস্যুলেটটি জেরুজালেম, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ রক্ষা এবং তাঁদের বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে।
তবে কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশে তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। ওই দূতাবাসের মাধ্যমে ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালিত হয়।
বুধবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর কনস্যুলেটটি তখনও কার্যক্রম চালাচ্ছে কি না, কিংবা সেখানে কর্মরত কূটনীতিকেরা যুক্তরাজ্যে ফিরে গেছেন কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেনি।
কূটনৈতিক বিরোধ বাড়লেও অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েল ঘনিষ্ঠ অংশীদার। ফলে কনস্যুলেট বন্ধের ঘটনাটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকেরা।