- ১৭ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বাংলাদেশে কথিত পুশইন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে বক্তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবসময় সচেতন এবং ঐক্যবদ্ধ। দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষও সীমান্ত সুরক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদী মনোভাব বা আগ্রাসী আচরণ দেশের জনগণ গ্রহণ করবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ন্যায্যতা, সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরে কয়েকটি বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের নেতারা।
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, এলডিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
বক্তারা সীমান্তে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সুষ্ঠু সমাধান এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
সীমান্ত পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলমান থাকলেও, এ ধরনের ইস্যুর সমাধানে কূটনৈতিক সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরেন বিশ্লেষকরা।