Thursday, June 18, 2026

পর্তুগালের হোঁচট, ইংল্যান্ডের গোল উৎসব আর শেষ মুহূর্তে ঘানার উল্লাস


ছবিঃ গোলের উৎসবে মেতেছে ইংল্যান্ড (সংগৃহীত)

স্পোর্টস ডেস্ক: PNN

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে নাটক, আবেগ আর কয়েকটি বড় চমক। যেখানে গোল উৎসবে মেতেছে ইংল্যান্ড, শেষ মুহূর্তের গোলে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে ঘানা, আর সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের অপ্রত্যাশিত ড্র।

হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠে নামে পর্তুগাল। ম্যাচটির দিকে বাড়তি নজর ছিল বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর। কারণ এটি ছিল কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আরেকটি বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সূচনা। শুরুটাও হয়েছিল স্বপ্নের মতো। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।

গোলের পর অনেকেই ভেবেছিলেন সহজ জয় পেতে যাচ্ছে ইউরোপিয়ান দলটি। কিন্তু ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে ডিআর কঙ্গো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইয়োয়ানে উইসার দুর্দান্ত হেডে সমতায় ফেরে আফ্রিকার দলটি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ করেও আর জালের দেখা পায়নি পর্তুগাল। রোনালদোকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যদের। বিশ্বকাপে ৫২ বছর পর ফিরে ডিআর কঙ্গোর জন্য এই ড্র ছিল অনেকটা জয়ের সমান।

অন্যদিকে দিনের সবচেয়ে উপভোগ্য ম্যাচ উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। দুই ইউরোপিয়ান শক্তির লড়াইয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ইংলিশরা। মাঝমাঠে দখল, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং কার্যকর ফিনিশিংয়ে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণকে বারবার বিপদে ফেলেছে তারা।

গোলের বন্যায় ভেসে যাওয়া ম্যাচটিতে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্টের শুরুতেই এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে থ্রি লায়ন্সরা। ম্যাচ শেষে ইংলিশ সংবাদমাধ্যমগুলোও দলটির আক্রমণভাগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

তবে রাতের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি ছিল ঘানা ও পানামার ম্যাচে। পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলই লড়াই করেছে সমানতালে। গোলের সুযোগ এসেছে দুই প্রান্তেই, কিন্তু সফল হতে পারেনি কেউ। যখন সবাই ধরে নিয়েছিল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আসে নাটকীয় মুহূর্ত।

পানামার রক্ষণ ভেদ করে জয়সূচক গোল করেন ক্যালেব ইয়েরেনকি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ঘানার বেঞ্চ ও সমর্থকরা। আর হতাশায় ভেঙে পড়ে পানামা। বিশ্বকাপের মতো আসরে শেষ মুহূর্তের এমন জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয় না, দলের মনোবলেও বিশাল প্রভাব ফেলে।

এদিকে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামে উজবেকিস্তান। প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়া। শুরুতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেললেও অভিজ্ঞতার পার্থক্য শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলটি করে উজবেকিস্তান কিছু সময়ের জন্য সমতায় ফিরলেও লুইস দিয়াজের নেতৃত্বে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় কলম্বিয়া। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে লাতিন আমেরিকার দলটি।

গ্রুপ পর্বের এই রাত শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় পর্তুগালের পয়েন্ট হারানো। কারণ কাগজে-কলমে গ্রুপ ‘কে’-এর সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত পর্তুগাল প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দারুণ সূচনা করেছে, ঘানা পেয়েছে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো জয়, আর কলম্বিয়া দেখিয়েছে কেন তাদেরকে এই বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’ বলা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন কিছু ফলাফল আবারও মনে করিয়ে দিল, ফুটবলে নাম বা ইতিহাস নয়—মাঠের ৯০ মিনিটই শেষ কথা বলে। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপকে বলা হয় অনিশ্চয়তার সবচেয়ে বড় মঞ্চ।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন