- ১৪ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও সীমিত অবকাঠামোর চাপ মোকাবিলায় বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বিশাল এই খাতকে আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
রোববার (১৪ জুন) রাজধানীতে ইউনিসেফ আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী এবং প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০টি।
তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে ওয়াশরুম সুবিধা থাকলেও সেগুলোর মানোন্নয়নে কাজ চলছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন অন্যতম অগ্রাধিকার।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মতো বিষয় যুক্ত করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।
তিনি স্বীকার করেন, স্কুলে ভর্তি হার তুলনামূলকভাবে কম এবং ড্রপআউটের হার এখনো উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে স্কুল ইউনিফর্ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করা হবে, যা আগামী জুলাই বা আগস্টে চালু হতে পারে।
এছাড়া আগামী বাজেট থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। খাবারের মান নিয়ে কিছু অভিযোগ থাকায় বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষক নিয়োগসহ বেশ কিছু প্রশাসনিক জটিলতা দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিভিন্ন মামলার কারণে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ৮৩ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক সংকট রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ দেওয়া ১৪ হাজার ৩০০ শিক্ষককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে এবং তাদের জন্য দুই বছরের প্রোবেশন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা হচ্ছে, যা আগে ছিল ১.৬৯ শতাংশ। প্রাথমিক শিক্ষায় বরাদ্দ ১২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আগামী চার বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বরাদ্দ বাড়লেও তা বাস্তবসম্মতভাবে ব্যবহার করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
বাল্যবিবাহ ও নারী শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ এখনো রয়েছে তবে তা গোপনে হচ্ছে। সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ১৮ বছরের নিচে বিয়ে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষায়ও কারিগরি শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ম্যাপিং কার্যক্রম চলছে। লক্ষ্য হলো কোনো গ্রাম যাতে শিক্ষা সুবিধার বাইরে না থাকে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি দক্ষ ও শিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে তোলা।