- ১৪ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি জোট। সম্প্রতি নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে কোম্পানিটিকে সাবপোইনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সাবপোইনায় ওপেনএআই-এর বিজ্ঞাপন নীতি, ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততা ও ধরে রাখার কৌশল, মডেলের আচরণগত বৈশিষ্ট্য (সাইকোফ্যান্সি), ভোক্তা ও স্বাস্থ্য–সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা, এবং শিশু ও প্রবীণ ব্যবহারকারীদের প্রতি আচরণ—এসব বিষয়ে নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
তদন্তের বিষয়ে ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানায়, তারা প্রতিদিনই এআই প্রযুক্তিকে নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে। কোম্পানিটি দাবি করেছে, অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের অ্যাটর্নি জেনারেলদের উদ্বেগকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, বর্তমানে চ্যাটজিপিটি শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা ব্যবহারকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে ব্যবহারকারীদের বাস্তব জীবনের সহায়তা ও বিশ্বস্ত উৎসের সঙ্গে যুক্ত করার দিকনির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য বয়স নির্ধারণ প্রযুক্তি, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল টুল এবং শিশুদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
তবে কোন কোন অঙ্গরাজ্য এই তদন্তে যুক্ত রয়েছে তা এখনো স্পষ্ট করেনি ওপেনএআই। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এর আগে ওপেনএআই বিভিন্ন আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ থেকে শুরু করে চ্যাটজিপিটির ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যা–সংক্রান্ত মামলাও। সম্প্রতি ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেলও ওপেনএআই এবং এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে যথাযথ সতর্কতা নেয়নি।
এছাড়া ওপেনএআই সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের সঙ্গে একটি উচ্চপ্রোফাইল মামলায় জয়ী হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি ওপেনএআই গোপনে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার (আইপিও) জন্য আবেদন করেছে।
নতুন এই তদন্তকে কেন্দ্র করে এআই প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।