- ১২ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স (সাবেক টুইটার) থেকে ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ সরে যাওয়ার পর ২০২৪ সালের শেষ দিকে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছিল বিকেন্দ্রীভূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্লুস্কাই। তবে সেই উত্থানের গতি এখন অনেকটাই থেমে গেছে। বরং নিয়মিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ধরে রাখাই প্ল্যাটফর্মটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান সিমিলারওয়েবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে বিশ্বজুড়ে ব্লুস্কাইয়ের মোবাইল অ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ। এক বছর আগের তুলনায় এই সংখ্যা ২৭ দশমিক ২ শতাংশ কম।
শুধু মাসিক ব্যবহারকারী নয়, দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যাও কমেছে। জুলাইয়ে ব্লুস্কাইয়ের মোবাইল অ্যাপে দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী প্রায় ৩০ লাখে নেমে আসে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
ব্লুস্কাইয়ের জন্য আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৪ সালের শেষ দিকে পাওয়া বড় ধরনের জনপ্রিয়তার পরও ব্যবহারকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে।
সিমিলারওয়েবের হিসাবে, ২০২৪ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ব্লুস্কাইয়ের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর ত্রৈমাসিক গড় ছিল প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখে। অর্থাৎ দেড় বছরের কিছু বেশি সময়ে সক্রিয় ব্যবহারকারী কমেছে প্রায় ৫২ শতাংশ।
এতে বোঝা যাচ্ছে, এক্স নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে যারা নির্বাচনের পর ব্লুস্কাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দীর্ঘমেয়াদে প্ল্যাটফর্মটিতে সক্রিয় থাকেননি।
তবে যারা এখনও ব্লুস্কাই ব্যবহার করছেন, তাদের সম্পৃক্ততা তুলনামূলকভাবে ভালো। জুনে দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ও মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর অনুপাত ছিল প্রায় ২৯ শতাংশ, যা মেটার থ্রেডসের কাছাকাছি।
ব্লুস্কাইয়ের নতুন প্রধান নির্বাহী টনি স্নাইডারের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি শুধু নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপের ব্যবহারকারী বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে না। বরং তাদের মূল লক্ষ্য হলো ‘এটি প্রোটোকল’ (AT Protocol)-কে এমন একটি অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা, যার ওপর একাধিক সামাজিক অ্যাপ, সেবা ও অনলাইন কমিউনিটি তৈরি হতে পারে।
ইতোমধ্যে ব্লুস্কাইয়ের বাইরে এই প্রোটোকলকে ঘিরে বিভিন্ন প্রকল্পের বিকাশ ঘটছে। ব্ল্যাকস্কাই ও ইউরোস্কাইয়ের মতো প্ল্যাটফর্ম বাড়ছে। ভিডিওকেন্দ্রিক স্কাইলাইটও প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।
এ ছাড়া ব্লুস্কাই সম্প্রতি এআই-চালিত গবেষণা টুল ‘অ্যাটিকে’ চালু করেছে। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কিংয়ের সুবিধা যুক্ত করার কাজও চলছে। এর মাধ্যমে যারা উন্মুক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদলে ব্যক্তিগত কমিউনিটি বা নেটওয়ার্কে আগ্রহী, তাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্লুস্কাইয়ের ব্যবহারকারী কমে যাওয়ার অর্থ যে তারা আবার এক্সে ফিরে যাচ্ছেন, এমন প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে না।
সিমিলারওয়েবের তথ্য বলছে, জুনে এক্সের মোবাইল অ্যাপের বিশ্বব্যাপী মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। জুলাইয়ে দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীও ৭ শতাংশ কমে প্রায় ১২ কোটি ৩৭ লাখে দাঁড়িয়েছে।
তবে এক্স এখনো অনেক বড় প্ল্যাটফর্ম। ২০২৬ সালের জুনে এর মোবাইল অ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ৩০ কোটি ২০ লাখ। একই সময়ে ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর আনাগোনাও বেড়েছে।
অন্যদিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে মেটার থ্রেডস। জুলাইয়ে প্ল্যাটফর্মটির দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী এক বছরে ২১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১৪ কোটি ৭০ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে থ্রেডসের ওয়েবসাইট ভিজিট বেড়েছে ১১২ শতাংশ।
ফলে ব্লুস্কাইয়ের কমে যাওয়া ব্যবহারকারীদের একটি অংশ কোথায় যাচ্ছে, সেই প্রশ্নে থ্রেডসও এখন আলোচনায় আসছে। তবে তারা সরাসরি ব্লুস্কাই থেকে থ্রেডসে যাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্য নেই।
ব্লুস্কাইয়ের নিজস্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটিতে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ। কিন্তু দৈনিক বা মাসিক কতজন নিয়মিতভাবে অ্যাপটি ব্যবহার করছেন, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করে না।
ফলে সামনে ব্লুস্কাইয়ের বড় পরীক্ষা শুধু নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করা নয়; বরং যারা ইতোমধ্যে যুক্ত হয়েছেন, তাদের কতটা দীর্ঘমেয়াদে সক্রিয় রাখা যায় এবং এটিপি প্রোটোকলকে ঘিরে নতুন সামাজিক প্ল্যাটফর্মের যে পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, সেটিকে কতটা সফলভাবে বড় করা যায়—তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ।