- ০৯ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শি জিনপিংয়ের বিরল পিয়ংইয়ং সফরের সময় অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও কৌশলগত সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, চীন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অগ্রগতি চায় এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা হবে। মঙ্গলবার কেসিএনএ জানিয়েছে, উভয় দেশই পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
বৈঠকে কিম জং উন চীন–উত্তর কোরিয়া সম্পর্ককে “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রাধিকার” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি শি জিনপিংকে “বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অতিথি” বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, চলতি বছরে প্রথম বিদেশ সফরের জন্য উত্তর কোরিয়াকে বেছে নেওয়ায় তিনি চীনের সমর্থনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।
রাষ্ট্রীয় বার্তায় আরও বলা হয়, কিম জং উন বেইজিংয়ের “এক চীন নীতি”-র প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে দুই নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, শি জিনপিং বাণিজ্য, কৃষি, নির্মাণ এবং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, উভয় দেশকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।
এ সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের “নতুন ঐতিহাসিক সূচনা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি সাত বছরের মধ্যে শি জিনপিংয়ের প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর। এর আগে তিনি কিম জং উনের সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠক করেন।
পিয়ংইয়ংয়ে শি জিনপিংকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার ও ২১ বন্দুকের সালাম জানানো হয়। সফরের সময় দুই নেতা ও তাদের স্ত্রীদের উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখলেও চীন এখনো দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক বৈঠকে বেইজিং পিয়ংইয়ংয়ের ওপর তার প্রভাব পুনরায় শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই বৈঠক মূলত রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের দিকেই বেশি মনোযোগী ছিল।