- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
পেঁয়াজের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়ার পরও পাইকারি ও খুচরা—দুই বাজারেই দাম রয়ে গেছে ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা।
খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের বেচাকেনা হয় মূলত কমিশনভিত্তিক। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকা থেকে মুঠোফোনের মাধ্যমে খাতুনগঞ্জের বাজারে পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। এতে দিনে দিনে এমনকি ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম ওঠানামা করছে।
সম্প্রতি হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার গত শনিবার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয় এবং রোববার থেকেই আমদানি শুরু হয়। শুরুতে এর প্রভাব পড়ে বাজারে—পাইকারিতে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই সেই স্বস্তি মিলিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার খাতুনগঞ্জে ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারিতে কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা খুচরা বাজারে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজ আড়তদার মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, “পেঁয়াজ আমদানি পুরোপুরি উন্মুক্ত না করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীকে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আসছে না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম নামছে না। সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ এলে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। দেশীয় মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসতে আরও অন্তত ১০ দিন সময় লাগবে।”
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ছাড়াও পাহাড়তলী, চাক্তাইসহ কয়েকটি এলাকায় বড় পাইকারি বাজার রয়েছে। তবে চট্টগ্রামে সরাসরি পেঁয়াজ আমদানিকারক না থাকায় কমিশননির্ভর বাণিজ্যই মূল ভরসা। এতে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যারা সীমান্ত পর্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করে দেশের বাজারে প্রভাব ফেলছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পেঁয়াজের বাজারে অনিয়ম ঠেকাতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালাচ্ছে। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার কাছে পেঁয়াজ কেনাবেচার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করা হচ্ছে। অনিয়মের সঙ্গে আমদানিকারকরাও জড়িত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খাতুনগঞ্জে দুই শতাধিক পেঁয়াজের আড়তে পেঁয়াজ ও রসুনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। দেশীয় পেঁয়াজও বাজারে আছে। সরবরাহে বড় কোনো ঘাটতি না থাকলেও দাম কমছে না। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি পণ্যের কমিশনভিত্তিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা না থাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে।
ভোক্তাদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা এবং বাজারে কঠোর নজরদারি না বাড়ালে এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আসবে না।