- ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (কিউ১) প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে। বিশেষ করে আইফোন বিক্রিতে সর্বকালের সেরা প্রান্তিক পার করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে চীন ও ভারতের বাজার বড় ভূমিকা রেখেছে।
বৃহস্পতিবার আয়–ব্যয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের পর আয়সংক্রান্ত কল-এ অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক জানান, ইতিহাসে এই প্রথম আইফোন বিক্রি সব অঞ্চল মিলিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার ভাষায়, “অভূতপূর্ব চাহিদার কারণে আইফোনের এটি ছিল সর্বকালের সেরা প্রান্তিক। প্রতিটি ভৌগোলিক অঞ্চলে আমরা নতুন রেকর্ড করেছি।”
অ্যাপলের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি প্রান্তিকে আইফোন বিক্রি থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে প্রায় ৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ৬৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
আয়সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে টিম কুক জানান, চীনের বাজারে আইফোন বিক্রি আশাতীতভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, বৃহত্তর চীন অঞ্চলে আইফোন থেকেই সর্বোচ্চ রাজস্ব এসেছে, যা ওই অঞ্চলে আইফোন বিক্রির ইতিহাসে সেরা প্রান্তিক। কুকের মতে, সেপ্টেম্বর মাসে উন্মোচিত আইফোন ১৭ মডেলটির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহই এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহত্তর চীন অঞ্চলে অ্যাপলের মোট বিক্রি এক বছরের ব্যবধানে ১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। কুক আরও জানান, চীনে অ্যাপল স্টোরগুলোতে ক্রেতা সমাগমও আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতের বাজার নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন অ্যাপল প্রধান। তিনি জানান, ডিসেম্বর প্রান্তিকে ভারতে অ্যাপল ত্রৈমাসিক আয়ের নতুন রেকর্ড করেছে। শুধু আইফোন নয়, ম্যাক, আইপ্যাড এবং সার্ভিস খাতেও সর্বোচ্চ আয় এসেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার এবং চতুর্থ বৃহত্তম পিসি বাজার হিসেবে ভারতকে “একটি দুর্দান্ত প্রান্তিক” কাটানোর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন কুক।
আইফোন ছাড়াও অ্যাপলের সামগ্রিক বিক্রি বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকা অঞ্চলে বিক্রি বেড়ে হয়েছে ৫৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছর ছিল ৫২ দশমিক ৬ বিলিয়ন। ইউরোপে বিক্রি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই প্রান্তিকে ছিল ৩৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে আইফোনের শক্তিশালী বিক্রি ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে অ্যাপলের জন্য এটি একটি অত্যন্ত সফল প্রথম প্রান্তিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।