- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে কর ও রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, “সংস্থার ঋণনির্ভর অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে কোনোটিই টেকসই নয়। জনগণের ট্যাক্স ও ভ্যাটের ওপর ভিত্তি করেই উন্নয়নের মূলধন তৈরি করতে হবে, আর সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।”
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত জাতীয় ভ্যাট দিবস ও সপ্তাহ–২০২৫ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সালেহউদ্দিন জানান, খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে ভ্যাট ফাঁকি এখনো রাজস্ব ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ ভোক্তার কাছ থেকে ভ্যাট নিলেও সরকারের কোষাগারে তা জমা পড়ে না। ভ্যাটকে জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ না করলে উন্নতির ধারা পিছিয়ে যাবে।”
তিনি ট্যাক্সকে দেশের প্রকৃত আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ট্যাক্স নির্ভরতা বাড়াতে হলে করদাতাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। “উন্নত দেশে করদাতারা বিশ্বাস করেন তাদের ট্যাক্সই উন্নত সেবায় ফিরে আসে। আমাদের ক্ষেত্রেও সে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।”
অনুষ্ঠানে অর্থ সচিব, ইআরডি সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বচ্ছতা, ডিজিটাল ভ্যাট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব খাতে প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, ভ্যাট চালুর শুরুর সময় ব্যাপক বিরোধিতা থাকলেও বর্তমানে সরকারি আয়ের বড় অংশই ভ্যাট থেকে আসে। “ভ্যাটের আয় না বাড়লে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা কিংবা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা—এই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো চালানো সম্ভব হতো না।”
ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সহজভ্যাট সফটওয়্যার প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “এই সফটওয়্যারটি সরকারি খরচে তৈরি হবে এবং ছোট উদ্যোকারা সহজেই ভ্যাট জমা দিতে পারবেন। এতে জটিলতা কমবে, স্বচ্ছতাও বাড়বে।”
তিনি আরও জানান, জিডিপির তুলনায় কর আদায়ের হার বর্তমানে মাত্র ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত কম। হিসাব পদ্ধতির পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে এই হার কমে যাওয়া সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি দৃঢ় করতে হলে করফাঁকি রোধ, ব্যবসায়ীদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং জনগণের ট্যাক্সের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। “রাজস্বই হবে দেশের উন্নয়নের ভিত্তি”—এই বার্তা নিয়েই শেষ হয় সেমিনারটি।