Monday, January 19, 2026

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাড়া না পেয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল চালু হতে পারছে না


ছবিঃকুষ্টিয়া সুগার মিলস (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বন্ধ করে দেওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি চিনিকল পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ঘোষণার এক বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সরকার গঠিত টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাড়া না পাওয়ায় পুরো উদ্যোগটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

চালু হওয়ার প্রত্যাশায় এসব চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও আখচাষিদের মধ্যে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সিদ্ধান্ত থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে মিলগুলো এখনও বন্ধই পড়ে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, রংপুর, পঞ্চগড়, পাবনা ও কুষ্টিয়ার ছয়টি চিনিকলে আখ মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় তৎকালীন সরকার। এর ফলে দেশের চিনি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ২০২২–২৩ মৌসুমে সব মিল মিলিয়ে মাত্র ২১ হাজার টনের কিছু বেশি চিনি উৎপাদন হয়। এই ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রিফাইনারি মিলগুলো বাজারে প্রভাব বিস্তার করে, ফলে চিনির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় পৌঁছায়।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার মিলগুলো বন্ধ রেখে আধুনিকায়নের নামে একটি বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠীর কাছে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। জুলাই বিপ্লবের পর সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চুক্তি বাতিল করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৩ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়, যা নভেম্বর মাসে প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে ধাপে ধাপে মিল চালু, ঋণ ও দায়দেনা সমন্বয়, উচ্চফলনশীল আখ চাষ, উপজাতভিত্তিক পণ্য উৎপাদন, দুর্নীতি রোধ ও আধুনিকায়নের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি চিনির বাজার স্থিতিশীল রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমদানি ব্যবস্থার কথাও বলা হয়। তবে এসব সুপারিশ এখনো বাস্তবায়নের আলো দেখেনি।

টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী ২০২৪–২৫ মাড়াই মৌসুমে শ্যামপুর ও সেতাবগঞ্জ চিনিকলের জন্য প্রায় ৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় এখনো সেই আবেদনে অনুমোদন দেয়নি।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রশিদুল হাসান জানান, অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় মিল চালুর প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, টাস্কফোর্সে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি না থাকায় এবং পূর্বানুমোদন না নেওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানায়, ট্রেড গ্যাপ ও ভর্তুকি বাবদ সরকারের কাছে শ্যামপুর চিনিকলের পাওনা ৪৫০ কোটির বেশি এবং সেতাবগঞ্জ চিনিকলের প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা। বিপরীতে দুই মিলের ব্যাংকঋণ ও দায়দেনা কয়েকশ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এতে করপোরেশন মারাত্মক আর্থিক চাপে রয়েছে।

এদিকে বন্ধ থাকা কুষ্টিয়া চিনিকলকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধীনে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেজার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে মিলের জমি ও অবকাঠামোর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বেজা মনে করছে, বিদ্যুৎ-পানি ও যোগাযোগ সুবিধার কারণে এই এলাকা কৃষিভিত্তিক শিল্পের জন্য উপযোগী।

তবে বিএসএফআইসি এই হস্তান্তরের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুষ্টিয়া চিনিকল অন্য সংস্থার কাছে দেওয়ার বিষয়ে তারা ভিন্নমত পোষণ করছে।

শিল্প উপদেষ্টা সম্প্রতি জানিয়েছেন, অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তবে অর্থের উৎস ও সময়সীমা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি। ফলে একদিকে আখচাষি ও শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিশিল্প ঘিরে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন