- ০২ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত ইউটিউবে কমেডি ও স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও বানাতেন বন্ধুদের সঙ্গে। সেই তরুণ নির্মাতাই এখন হলিউডের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মাত্র ২৬ বছর বয়সে ক্যারি বার্কার দেখিয়ে দিয়েছেন, বড় বাজেট বা তারকাবহুল কাস্ট ছাড়াও বিশ্বব্যাপী সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
বার্কারের নির্মিত অতিপ্রাকৃত হরর চলচ্চিত্র ‘অবসেশন’ মুক্তির পর বক্স অফিসে অভাবনীয় সাড়া ফেলেছে। প্রায় ১০ লাখ ডলারের বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ১০৮ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বল্প বাজেটের কোনো হরর ছবির জন্য এটি অন্যতম বড় সাফল্য।
ক্যারি বার্কারের চলচ্চিত্রে আসার গল্পটিও বেশ ব্যতিক্রমী। বন্ধু কুপার টমলিনসনের সঙ্গে তিনি পরিচালনা করতেন একটি ইউটিউব চ্যানেল, যেখানে নিয়মিত কমেডি স্কেচ ও পরীক্ষামূলক ভিডিও প্রকাশ করা হতো। সেই সময়েই তিনি গল্প নির্মাণ, সম্পাদনা, ক্যামেরা ব্যবহার এবং দর্শকের মনস্তত্ত্ব বোঝার মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন। বার্কারের ভাষায়, প্রচলিত ফিল্ম স্কুলে না গেলেও ইউটিউবই ছিল তাঁর শেখার সবচেয়ে বড় মাধ্যম।
২০২৪ সালে তিনি নির্মাণ করেন ‘মিল্ক অ্যান্ড সেরিয়াল’ নামের একটি স্বল্প বাজেটের চলচ্চিত্র। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ছবিটির নির্মাণ ব্যয় ছিল মাত্র ৮০০ ডলার। কোনো বড় প্ল্যাটফর্মে নয়, সরাসরি ইউটিউবেই ছবিটি প্রকাশ করা হয়। মুক্তির পর দ্রুত দর্শকদের নজর কাড়ে এবং বার্কারের সৃজনশীলতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মনে করেন, এই চলচ্চিত্রই তাঁর পরবর্তী সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
২০২৫ সালে নির্মিত ‘অবসেশন’ প্রথম প্রদর্শিত হয় টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। প্রদর্শনীর পর থেকেই ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করতে শুরু করে। উৎসবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর চলচ্চিত্রটির পরিবেশনা স্বত্ব অধিগ্রহণ করে একটি বড় স্টুডিও, যা বার্কারের ক্যারিয়ারে নতুন মোড় এনে দেয়।
মুক্তির আগে বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, ছবিটি প্রথম সপ্তাহান্তে মাঝারি পর্যায়ের আয় করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে ‘অবসেশন’ প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যায়। প্রথম সপ্তাহেই উল্লেখযোগ্য আয় করে ছবিটি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল দ্বিতীয় সপ্তাহে দর্শকসংখ্যা কমার পরিবর্তে বৃদ্ধি পাওয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ ছবিটির জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তরুণ দর্শকদের মধ্যে ছবিটি ব্যাপক সাড়া ফেলে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ‘অবসেশন’-এর সাফল্যের মূল শক্তি এর গল্প, পরিবেশ এবং মানসিক ভয়ের উপস্থাপনা। ছবিটিতে ব্যয়বহুল ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট বা বড় তারকার উপস্থিতি নেই। কিন্তু রহস্যময় আবহ ও টানটান উত্তেজনা দর্শকদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
হরর ঘরানার অনেক চলচ্চিত্র যেখানে তাৎক্ষণিক ভয় দেখানোর ওপর নির্ভর করে, সেখানে ‘অবসেশন’ দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি ও কৌতূহল তৈরি করেছে।
ছবিটির সাফল্যের পর হরর চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত প্রযোজক জেসন ব্লাম প্রকাশ্যে বার্কারের প্রশংসা করেন। জানা গেছে, বার্কারের ভবিষ্যৎ কয়েকটি প্রকল্পেও সহযোগিতা করছে তাঁর প্রতিষ্ঠান।
ইতোমধ্যে নতুন হরর চলচ্চিত্র ‘অ্যানিথিং বাট গোস্টস’-এর কাজ শুরু করেছেন বার্কার। পাশাপাশি জনপ্রিয় হরর ফ্র্যাঞ্চাইজির একটি নতুন সংস্করণ নিয়েও কাজ করছেন তিনি।
‘অবসেশন’-এর সাফল্য শুধু একটি চলচ্চিত্রের বিজয় নয়; এটি ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। একসময় ইউটিউবকে প্রচলিত চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হলেও এখন অনেক নির্মাতা সেই প্ল্যাটফর্ম থেকেই মূলধারার সিনেমায় প্রবেশ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা ইউটিউবকে শুধু কনটেন্ট প্রকাশের জায়গা নয়, বরং দক্ষতা অর্জন ও দর্শক তৈরি করার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। আর ‘অবসেশন’-এর সাফল্য প্রমাণ করেছে, প্রতিভা ও সৃজনশীলতা থাকলে সীমিত বাজেটও বিশ্বব্যাপী সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।