- ২৫ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেই নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিচার দাবির বিষয়টিকেও সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান বলে উল্লেখ করেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ১২টি প্রতিষ্ঠানের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানরাও উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়। এ নিয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যথাসময়ে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বই গ্রহণ করবে। এর আগে এ বিষয়ে কোনো ব্যক্তিগত মতামতকে দলীয় অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যে বিচার দাবি তোলা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব দাবি সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক মূল্যায়নের অংশ।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নতুন চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা সততা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা জনগণের আস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা সমুন্নত রেখে কাজ করবেন।
রিজভী আরও দাবি করেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের নীতি অনুসরণ করছেন এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও সে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে আলোচনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।