- ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নোয়াখালী
নোয়াখালীর ১০টি থানায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ অভিযানে এক হাজার ১০৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮৫ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি এক হাজার ২১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন অভিযানের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার পুলিশ সুপার এনএম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫৩ জনের বিরুদ্ধে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাতজনকে। আগের মামলায় ১৩ জন এবং পুরোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, একজনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনকে সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে।
থানাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ২৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে হাতিয়া থানায়। এরপর বেগমগঞ্জে ১৮৩ জন, কোম্পানীগঞ্জে ১৩১ জন, সুধারাম মডেল থানায় ১২৫ জন এবং চরজব্বর থানায় ১১০ জনকে আটক করা হয়।
এ ছাড়া সোনাইমুড়ী থানায় ৯২ জন, কবিরহাটে ৬০ জন, চাটখিলে ৫৯ জন এবং সেনবাগে ৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি একজনকে কোন থানায় আটক করা হয়েছে, দেওয়া তথ্যে তা উল্লেখ নেই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।