- ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
রাজধানীর নিউমার্কেট সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিতে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন নামে এক ব্যক্তির নিহত হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, নিহত টিটন দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত প্রায় ৮টার দিকে নীলক্ষেতের বটতলা এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, টিটনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে মাথায়ও আঘাত ছিল। এতে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা মুখোশ ও ক্যাপ পরিহিত ছিল। গুলি চালানোর পর তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। স্থানীয়রা ধাওয়া করার চেষ্টা করলে আতঙ্ক ছড়াতে ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিটন অতীতে একাধিক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি মুক্তি পান। তবে মুক্তির পরও তার বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল ছিল।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। টিটনের হত্যার পেছনে প্রতিদ্বন্দ্বী চক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পূর্বের কিছু হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ডিবি ও থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত টার্গেট কিলিং। তবে নিশ্চিত হতে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে অপরাধ জগতের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব ঘটনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।