- ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ তারিখ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তার পরদিন থেকেই দেশ পুনর্গঠনের সংগ্রাম শুরু হবে। এ কাজে সবাইকে বিএনপির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশে সঠিক প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তাও দেন দলটির শীর্ষ নেতা।
রোববার রাতে রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় সানভ্যালি মাঠে ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব দেশের জনগণেরই। দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে হবে—যেখানে শিশুরা মানসম্মত শিক্ষা পাবে, মানুষ সহজে স্বাস্থ্যসেবা পাবে, যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
রাত ১১টার পর তারেক রহমানের বক্তব্য শুরু হয়। এর আগে সন্ধ্যায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। সমাবেশে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। বিকেল থেকেই ঢাকা-১১ আসনের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষ সভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন।
ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তিনি সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাতে কেউ বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে।
ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম ঠেকাতে সতর্ক থাকার কথাও বলেন তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, কোথাও কোথাও জাল সিল তৈরির চেষ্টা ধরা পড়েছে—এ ধরনের অপচেষ্টা রুখতে ভোটারদের সচেতন থাকতে হবে।
ধানের শীষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বর্তমানে এমন একটি দল, যাদের রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা, সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী কর্মসূচি রয়েছে। জনগণের সমর্থন পেলে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ভোটের হিসাব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট দিয়ে দায়িত্ব শেষ নয়—ভোটের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাও নাগরিক দায়িত্ব।
বক্তব্যে তারেক রহমান নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ঘরে বসে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা এবং মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানজনক ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন।
আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম কাজ হবে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে, যেখানে মানুষ যেকোনো সময় নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।
গত ১৬ বছরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, এ সময় জনগণের প্রকৃত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছিল না। নির্বাচন ব্যবস্থাকে নাটকে পরিণত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশে ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুমকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। এম এ কাইয়ুমের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
এর আগে রোববার দিনভর রাজধানীর ইসিবি চত্বর, পল্লবী, মিরপুর, সেনপাড়া ও শ্যামলী ক্লাব মাঠে পৃথক জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।