- ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মুঠোফোন বহন নিষিদ্ধ করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে হঠকারী ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে এবং অবিলম্বে তা বাতিল করা উচিত।
সোমবার সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ভোটকেন্দ্রের চারপাশে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ মানে ভোটারসহ সবাইকে ঘরে ফোন রেখে আসতে হবে। এতে মোবাইল জার্নালিজম বা নাগরিক সাংবাদিকতার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর মতে, নির্বাচন ব্যবস্থায় কারচুপি বা অনিয়মের আশঙ্কা থাকলেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী। তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে একই পোস্ট সোমবার দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যিনি পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী।
এর আগে রোববার নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে এবং কেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে ভোটারদের মুঠোফোন বহন করা যাবে না।
এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন না নেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ তিনি দেখেন না। এতে বিপদের সময় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক মানুষ ভোট দিতেই আগ্রহ হারাতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর নয়। সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনিয়ম বা জালিয়াতির দৃশ্য ধারণ করে দ্রুত প্রকাশ করার সুযোগ থাকে, যা নির্বাচনকে স্বচ্ছ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন কেন্দ্র দখল ও ভোট চুরি ঠেকাতে কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, অনিয়মের ভিডিও ধারণ ঠেকাতেই নির্বাচন কমিশন এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যা কার্যত ভোট কারচুপির পথ খুলে দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে নির্বাচন নিয়ে জনমনে আরও সন্দেহ তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।