- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সমস্যায় থাকা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান নগদে নতুন বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও সার্বিক অবস্থা যাচাই করতে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ফরেনসিক অডিট পরিচালনার অনুমতি চেয়েছেন।
জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নগদের বর্তমান আর্থিক ও পরিচালনাগত অবস্থার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের সুযোগ চাওয়া হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আরমান নিজেই।
এক সাক্ষাৎকারে মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, সম্ভাব্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নগদে অর্থায়নের আগ্রহ দেখালেও তারা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক চিত্র জানতে চান। সে কারণেই ফরেনসিক অডিটের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ঝুঁকি, দায়-দেনা, সম্পদ ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি।
তিনি আরও জানান, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগে কয়েকজন বিদেশি বিনিয়োগকারীর আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
২০১৯ সালে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ-এর ডিজিটাল আর্থিক সেবা হিসেবে যাত্রা শুরু করে নগদ। বর্তমানে এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অস্থায়ী লাইসেন্সের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
২০২৪ সালের আগস্টে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে ফরেনসিক অডিট ও দুর্নীতি দমন কমিশন-এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে আগের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে আহসান এইচ মনসুর বলেন, নগদ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রস্তাব এলেও এখনো এমন কোনো প্রস্তাব আসেনি যা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা যায়। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকার নগদকে পুনরায় বেসরকারি খাতে দেওয়ার আগ্রহ দেখালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নতুন সরকার। বর্তমানে নগদ সরকারের মালিকানায় রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি করছে।
মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান প্রয়াত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী-এর পুত্র। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের সময়ে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট মুক্তি পান। আইন বিষয়ে যুক্তরাজ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই আইনজীবী এখন বিনিয়োগ ও নীতিগত সমন্বয়ের কাজে যুক্ত আছেন বলে জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, নগদের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও মালিকানা নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অডিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় একটি পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক তদন্তই হতে পারে পরবর্তী বড় পদক্ষেপ।