- ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নেত্রকোনা
নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর নাজু আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নাজুর ভাই মো. শুভ বাদী হয়ে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তার সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে (৪০) আসামি করে নেত্রকোনা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ এরই মধ্যে নুরুল আমিনকে আটক করেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নাজু নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে নুরুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নাজুকে হত্যার পর মরদেহ নদের পাড়ে মাটিচাপা দেওয়ার কথা জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরে ওই স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৪ বছর আগে নাজু আক্তারের সঙ্গে নুরুল আমিনের বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের প্রায় আড়াই বছর পর তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয় এবং পরবর্তী সময়ে দুই দফায় তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। দেনমোহরের টাকা হিসেবে নুরুল দুই দফায় দুই লাখ টাকা পরিশোধ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরবর্তীতে নাজু নুরুলের বিরুদ্ধে খোরপোশ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলার মীমাংসা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পুলিশ বলছে, মামলা নিষ্পত্তির জন্য নাজু পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কৃষিকাজের জন্য কীটনাশক কিনতে জেলা শহরে গেলে নাজুর সঙ্গে নুরুলের দেখা হয়। পাওনা টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে নাজুর মোবাইল ফোন নিয়েও টানাহেঁচড়া হয়। স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি দেখে তাদের শান্ত করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যেতে বলেন।
পুলিশের তথ্যমতে, পরে নাজুকে টাকা দেওয়ার কথা বলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে তাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন নুরুল। পথে খাটপুড়া সেতুর কাছে পৌঁছালে তাদের মধ্যে আবারও বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে নুরুল নাজুর বুকে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপর মোটরসাইকেলচালক তাদের সেখানে রেখে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নাজু বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন। পরে ২২ সেপ্টেম্বর তার ছোট ভাই মো. শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং একপর্যায়ে নুরুল আমিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল জানান, মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে নাজুকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহটি নদের পাড়ে নিয়ে একটি গর্তে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, নুরুল আমিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে নাজু আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নাজুর ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। আটক নুরুল আমিনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।