Monday, January 12, 2026

নবীন কারিগরি শিক্ষকদের জন্য এমপিও সুবিধায় শিথিলকরণের উদ্যোগ


প্রতীকী ছবিঃ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

এমপিওভুক্তির কঠোর ও জটিল শর্তের কারণে ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও বহু কারিগরি শিক্ষক এতদিন এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে এবার সেই জট খুলতে পারে। আবেদন বাতিল হওয়া শিক্ষকদের জন্য শর্ত শিথিল করার বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, যা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে থাকা শিক্ষকদের জন্য স্বস্তি ফিরে আসতে পারে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৫০তম এমপিও কমিটির সভায় মোট ১৪২টি এমপিও আবেদন বাতিল করা হয়। শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষার্থী সংখ্যা ও পাসের হার নির্ধারিত মানদণ্ডে না পৌঁছানোয় এসব আবেদন নাকচ করা হয়েছিল। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ফলাফল বিবেচনায় নেওয়ায় অনেক নতুন শিক্ষক এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হন।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এসব শর্ত আরোপ না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে অধিদপ্তর। শর্তগুলো শিথিল করে বাতিল হওয়া আবেদনগুলো পুনরায় এমপিওভুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পিআইইউ) প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান জানান, বাতিল হওয়া এমপিও আবেদনগুলোর বিষয়ে ইতিবাচকভাবে ভাবা হচ্ছে। আসন্ন এমপিও কমিটির সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে গত রবিবার এমপিও সংক্রান্ত দুই দাবিতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষকরা। পরে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষকরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরলে মহাপরিচালক বিষয়গুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা বলেন, একই গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ পেলেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধিভুক্ত শিক্ষকরা সময়মতো এমপিও ও বেতন সুবিধা পাচ্ছেন, অথচ কারিগরি শিক্ষকদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এতে শিক্ষক সমাজের মধ্যে চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, নিয়োগের সময় ‘কাম্য শিক্ষার্থী’, ‘কাম্য পরীক্ষার্থী’ ও ‘কাম্য পাসের হার’ সংক্রান্ত শর্ত সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। ফলে নবীন শিক্ষকরা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে এমপিও থেকে বাদ পড়ছেন, যা অযৌক্তিক ও মানবিকতার পরিপন্থী।

করোনা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী সংকট একটি সাধারণ বাস্তবতা হলেও কেবল কারিগরি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে এসব শর্ত প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। বর্তমানে বাতিল হওয়া ১৪২টি ফাইল ছাড়াও আরও বহু এমপিও আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

শিক্ষকরা অবিলম্বে সব শর্ত শিথিল করে বাতিল হওয়া ফাইলসহ সকল আবেদনকারীর এমপিও কার্যকর করা এবং যোগদানের দিন থেকেই বেতন প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণার কথাও জানান তারা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন