- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীন সাত কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় চার মাস পর বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) একযোগে সব কলেজ ও বিভাগে ক্লাস এবং পরিচিতি সভার মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরানো হয়েছে ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কলেজসহ সাত কলেজের প্রতিটি বিভাগে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হন, সিলেবাস ও ক্লাস রুটিন সম্পর্কে ধারণা দেন এবং নিয়মিত ক্লাস শুরুর সময়সূচি জানিয়ে দেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে চলা উৎকণ্ঠা অনেকটাই কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
নবীন শিক্ষার্থী নাসির আহমেদ বলেন, প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক। অনেক দিন ধরে নানা কথা শুনে আমরা অনিশ্চয়তায় ছিলাম। আজ রুটিন ও সিলেবাস বুঝিয়ে দেওয়ায় একটা স্বস্তি কাজ করছে। ক্লাস কবে থেকে নিয়মিত হবে, সেটা জানানোয় ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আগে কিছু বিষয় নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলেও এখন সবাই সামনে এগোতে চায়। পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাই এখন সবার লক্ষ্য।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তী প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস জানান, শুরুর দিকে কিছু জটিলতা থাকলেও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। নিয়মিত ক্লাস শুরু হওয়ায় সেশনজট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রথম বর্ষের পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়সূচি বিবেচনায় সিলেবাস শেষ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্লাস ও পরীক্ষা সম্পন্ন করা গেলে শিক্ষার্থীদের বড় কোনো একাডেমিক ক্ষতি হবে না।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সুপারিশ করে। পরে সরকার নীতিগতভাবে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। এই সাত কলেজ হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।
শিক্ষক ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে দ্রুতই স্বাভাবিক শিক্ষাবর্ষে ফেরা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।