- ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরন radically বদলে যাবে—এমনকি স্মার্টফোন হয়তো বর্তমান রূপেই থাকবে না। এমনই মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ট্রু ভেঞ্চার্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জন ক্যালাহান।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে ফিটবিট, রিং, পেলোটন, হাশিকর্প ও ডুয়ো সিকিউরিটির মতো সফল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা এই বিনিয়োগকারীর মতে, মানুষের সঙ্গে প্রযুক্তির যোগাযোগের পদ্ধতিই এখন বড় পরিবর্তনের মুখে।
জন ক্যালাহান বলেন, “আমরা এখন যেভাবে ফোন বের করে মেসেজ পাঠাই বা ইমেইল লিখি, সেটি খুবই অদক্ষ একটি পদ্ধতি। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বারবার বিঘ্ন ঘটায় এবং ভুলের ঝুঁকিও থাকে।” তাঁর মতে, স্মার্টফোন মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যকার আদর্শ ইন্টারফেস নয়।
এই বিশ্বাস থেকেই ট্রু ভেঞ্চার্স গত কয়েক বছর ধরে বিকল্প ইন্টারফেস নিয়ে কাজ করছে—যেখানে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার একসঙ্গে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। অতীতে এই মানসিকতাই প্রতিষ্ঠানটিকে ফিটবিট বা পেলোটনের মতো পণ্যে বিনিয়োগে উৎসাহিত করেছিল, যখন অন্য অনেক বিনিয়োগকারী সেসবকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
এই দর্শনের সাম্প্রতিক উদাহরণ ‘স্যান্ডবার’ নামের একটি নতুন হার্ডওয়্যার ডিভাইস। এটি একটি কণ্ঠসক্রিয় আংটি, যা আঙুলে পরা হয়। ক্যালাহানের ভাষায়, এটি একটি “থট কম্প্যানিয়ন”—যার কাজ হলো মানুষের মাথায় আসা ভাবনা বা তথ্য মুহূর্তেই ভয়েস নোটের মাধ্যমে ধরে রাখা এবং সেগুলো সংগঠিত করা।
তিনি জানান, এটি কোনো স্বাস্থ্য ট্র্যাকিং ডিভাইস নয় বা বাজারে থাকা অন্য এআই গ্যাজেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যেও তৈরি হয়নি। বরং মানুষের একটি মৌলিক আচরণগত প্রয়োজন—হঠাৎ আসা ভাবনা সংরক্ষণ—এই একটি কাজই এটি সবচেয়ে ভালোভাবে করে।
স্যান্ডবারের প্রতিষ্ঠাতা মিনা ফাহমি ও কিরাক হং আগে মেটার অধিগ্রহণ করা নিউরাল ইন্টারফেস স্টার্টআপ CTRL-Labs-এ একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। ক্যালাহানের মতে, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অন্য সবার থেকে আলাদা। “এটা কেবল একটি ডিভাইস নয়, বরং এমন একটি অভ্যাস তৈরি করবে, যা ছাড়া ভবিষ্যতে মানুষ চলতেই পারবে না,” বলেন তিনি।
ট্রু ভেঞ্চার্সের বিনিয়োগ কৌশল বরাবরই ভিন্ন। যেখানে অনেক এআই স্টার্টআপ শুরুতেই শত শত মিলিয়ন ডলার তুলছে, সেখানে ট্রু সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০ থেকে ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে এবং প্রতিষ্ঠানের ১৫–২০ শতাংশ মালিকানা নেয়। ক্যালাহান মনে করেন, অসংখ্য বিলিয়ন ডলার তোলা ছাড়া এখনো ভালো কিছু তৈরি করা সম্ভব।
এআই খাত নিয়ে তিনি আশাবাদী হলেও সতর্ক। তাঁর মতে, ডেটা সেন্টার ও চিপে বিপুল মূলধনী বিনিয়োগ ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রকৃত মূল্য সৃষ্টির সুযোগ থাকবে অ্যাপ্লিকেশন স্তরে—যেখানে নতুন ইন্টারফেস মানুষের আচরণ বদলে দেবে।
সব মিলিয়ে ক্যালাহানের বিশ্বাস, প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আসে তখনই, যখন নতুন কোনো ব্যবহার অভ্যাস তৈরি হয়। স্মার্টফোনের বাজার যেখানে প্রায় স্থবির, সেখানে ওয়্যারেবল ও ভয়েস-ভিত্তিক ডিভাইস দ্রুত বাড়ছে। এই প্রবণতাই ইঙ্গিত দিচ্ছে—মানুষ প্রযুক্তির সঙ্গে যোগাযোগের নতুন পথ খুঁজছে, আর সেই পথেই বাজি ধরছে ট্রু ভেঞ্চার্স।