- ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই–এর বিরুদ্ধে চলমান মামলায় নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জবানবন্দিতে তিনি ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠিত এক্সএআই নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
জবানবন্দিতে মাস্ক বলেন, “গ্রোকের কারণে কেউ আত্মহত্যা করেছে—এমন ঘটনা নেই, কিন্তু চ্যাটজিপিটির ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ উঠেছে।” তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যে প্রযুক্তি মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই মন্তব্য উঠে আসে ২০২৩ সালের মার্চে প্রকাশিত একটি খোলা চিঠি প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের সময়। ওই চিঠিতে জিপিটি-৪–এর চেয়ে শক্তিশালী এআই মডেল উন্নয়ন কমপক্ষে ছয় মাস স্থগিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এক হাজারের বেশি ব্যক্তি, যার মধ্যে এআই বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন, চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। সেখানে সতর্ক করা হয় যে, পর্যাপ্ত নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এআই উন্নয়ন একটি ‘নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিযোগিতায়’ রূপ নিচ্ছে।
এরই মধ্যে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে—চ্যাটজিপিটির কথোপকথনের ধরণ কিছু ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এসব অভিযোগ এখনো বিচারাধীন, মাস্কের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি সেগুলোকে মামলার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
মাস্কের ভিডিও সাক্ষ্য গত সেপ্টেম্বরে নেওয়া হলেও আসন্ন জুরি বিচারের আগে চলতি সপ্তাহে তা প্রকাশ্যে দাখিল করা হয়েছে। মামলার মূল বিষয় হলো—অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে ওপেনএআইয়ের লাভজনক কোম্পানিতে রূপান্তর। মাস্কের দাবি, এ পরিবর্তন প্রতিষ্ঠার সময়কার নীতিগত চুক্তির পরিপন্থী। তাঁর অভিযোগ, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের কারণে নিরাপত্তার চেয়ে গতি ও আয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
তবে সমালোচনার মুখে কেবল ওপেনএআই নয়, মাস্কের নিজস্ব উদ্যোগও পড়েছে। সম্প্রতি তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স–এ গ্রোক ব্যবহার করে তৈরি কিছু অননুমোদিত নগ্ন ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ছবিও থাকার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আরও কয়েকটি দেশও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
জবানবন্দিতে মাস্ক বলেন, তিনি এআই উন্নয়নে সতর্কতার আহ্বান জানিয়ে চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, কারণ “এটি ভালো ধারণা মনে হয়েছিল,” প্রতিযোগিতামূলক স্বার্থে নয়। তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই (AGI)–এর ঝুঁকি রয়েছে এবং নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
মাস্ক স্বীকার করেন, ওপেনএআইয়ে তাঁর অনুদানের পরিমাণ নিয়ে পূর্বে দেওয়া তথ্য সঠিক ছিল না। তিনি আগে ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদানের কথা বললেও সংশোধিত নথিতে তা প্রায় ৪৪.৮ মিলিয়ন ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওপেনএআই প্রতিষ্ঠার পেছনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাস্ক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় গুগলের সম্ভাব্য একচেটিয়া প্রভাব নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাঁর দাবি, গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এআই নিরাপত্তা বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেখতে পাননি। সেই প্রেক্ষাপটেই একটি ভারসাম্য তৈরি করতে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা কেবল দুই প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্ব নয়; বরং দ্রুত বিকাশমান এআই শিল্পে নিরাপত্তা, নীতি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের ভারসাম্য নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন তুলে ধরছে। আসন্ন বিচার প্রক্রিয়া এ বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে।