Monday, January 12, 2026

ওয়াই কম্বিনেটর ও স্টার্টআপে ডিগ্রি না থাকা অনেকের জন্য ‘যোগ্যতার প্রতীক’


ফাইল ছবিঃ মার্ক জাকারবার্গ (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

স্টিভ জবস, বিল গেটস বা মার্ক জাকারবার্গ—এই নামগুলো শুনলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে কলেজ শেষ না করেও বিশ্বজয় করা উদ্যোক্তার ছবি। যদিও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, সফল স্টার্টআপগুলোর বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠাতারই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে, তবুও ‘ড্রপআউট ফাউন্ডার’ হওয়ার ধারণা এখনও উদ্যোক্তা দুনিয়ায় শক্ত আবেদন ধরে রেখেছে।

বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্রিক বর্তমান প্রযুক্তি জোয়ারে এই প্রবণতা আবারও জোরালোভাবে ফিরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেটর ওয়াই কম্বিনেটরের (YC) ডেমো ডে আয়োজনগুলোতে সম্প্রতি অনেক উদ্যোক্তাকেই এক মিনিটের পিচে গর্বের সঙ্গে নিজেদের ড্রপআউট পরিচয় তুলে ধরতে দেখা যাচ্ছে।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান মক্সি ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও জেনারেল পার্টনার কেটি জ্যাকবস স্ট্যানটন বলেন, ওয়াই কম্বিনেটর আনুষ্ঠানিকভাবে ড্রপআউটদের হিসাব রাখে কি না তা জানা না গেলেও সাম্প্রতিক ব্যাচগুলোতে কলেজ, গ্র্যাজুয়েট স্কুল এমনকি হাইস্কুল ছেড়ে দেওয়া উদ্যোক্তার সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। তাঁর মতে, এখন ড্রপআউট হওয়াটাই অনেক সময় এক ধরনের ‘যোগ্যতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা উদ্যোক্তার দৃঢ়তা ও প্রতিশ্রুতির প্রতীক।

তবে বাস্তবতা হলো, এআই খাতের অনেক শীর্ষ উদ্যোক্তা ডিগ্রি শেষ করাকেই বেছে নিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে কার্সরের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ট্রুয়েল এমআইটি থেকে স্নাতক হয়েছেন, আর কগনিশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্কট উ হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট।

এর পরও অনেক তরুণ উদ্যোক্তার মধ্যে ভয় কাজ করছে—ডিগ্রি শেষ করতে গেলে এআই নির্মাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। এই তাড়না থেকেই জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নামী প্রতিষ্ঠানের পড়াশোনা ছেড়ে স্টার্টআপে ঝাঁপিয়েছেন মারকর-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রেন্ডন ফুডির মতো উদ্যোক্তারা।

ওয়াই কম্বিনেটরকেন্দ্রিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ফসফর ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা কুলভীর ট্যাগার বলেন, তরুণদের মধ্যে এক ধরনের তীব্র তাড়াহুড়ো ও ‘ফোমো’ বা সুযোগ হারানোর ভয় কাজ করছে। তাঁর ভাষায়, এখন অনেকেই ভাবছে—ডিগ্রি শেষ করব, নাকি এখনই বানাতে শুরু করব?

এই ভয় কখনও কখনও চরম সিদ্ধান্তেও গড়াচ্ছে। একটি অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক জানান, তাঁর এক ছাত্র শেষ সেমিস্টারে এসেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। ওই ছাত্রের ধারণা ছিল, ডিগ্রি থাকলে বরং বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

তবে সব বিনিয়োগকারী এই ধারণায় বিশ্বাসী নন। জেনারেল ক্যাটালিস্টের সিড স্ট্র্যাটেজি প্রধান ইউরি সাগালভ বলেন, শেষ বর্ষে এসে কেউ ডিগ্রি শেষ না করলেও তিনি বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখেন না। তাঁর মতে, ডিগ্রি না পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক নেটওয়ার্ক ও ব্র্যান্ড ভ্যালু উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে থাকে।

সাগালভ বলেন, লিংকডইনে কেউ দেখলে সাধারণত এটা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না যে আপনি ডিগ্রি শেষ করেছেন কি না—বরং কোথায় পড়েছেন, সেটাই বেশি গুরুত্ব পায়।

তবে সবাই যে তরুণ বা ড্রপআউট উদ্যোক্তাদের পক্ষে, তা নয়। এফপিভি ভেঞ্চার্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ওয়েসলি চ্যান মনে করেন, বাজারে টিকে থাকতে সবচেয়ে জরুরি গুণ হলো প্রজ্ঞা বা অভিজ্ঞতা। তাঁর মতে, এই গুণ সাধারণত বয়সে একটু বড় উদ্যোক্তা বা যারা ব্যর্থতা ও কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, তাদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়।

সব মিলিয়ে এআই যুগে ড্রপআউট হওয়া নিয়ে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হলেও, বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি এখনও একমুখী নয়। কারও কাছে ডিগ্রি অপ্রয়োজনীয়, আবার কারও কাছে অভিজ্ঞতাই শেষ কথা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন