- ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে রাজধানীর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং কেপিআইভুক্ত স্থাপনায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও তল্লাশি।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৪টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং কাফরুলে একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর পরদিন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও প্রবেশপথে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসানোর কথা জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সন্দেহজনক যানবাহন, বিশেষ করে মোটরসাইকেল, তল্লাশির পাশাপাশি মোবাইল, পায়ে হাঁটা ও মোটরসাইকেল টহল বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা শাখা, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), এপিবিএন ও বিশেষায়িত বাহিনীর সদস্যদেরও বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো ও খিলগাঁওয়ের পাশাপাশি গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বসিলা এবং মিরপুরের শেষ প্রান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসব এলাকার একাধিক প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ থাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি ঠেকাতে তল্লাশি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গণপরিবহন, রেলপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
এদিকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরদিন একই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগিতে আগুন লাগে। তবে ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনাটি নাশকতা কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী এলাকায় চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অবিস্ফোরিত ককটেলও উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তদন্তে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা, অর্থের জোগান বা নির্দেশনার বিষয়ও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এসব অভিযোগ তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
রেলপথের নিরাপত্তাও নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। কমলাপুরের ঘটনাগুলোর পর স্টেশন ও রেলপথে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানীতে তল্লাশি, টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। নাশকতার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।