Thursday, May 14, 2026

মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর নতুন করের চিন্তা, উদ্বেগে চালক ও ব্যবসায়ীরা


প্রতীকী ছবিঃ মোটরসাইকেল (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

আগামী জাতীয় বাজেটে মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনক্ষমতা বা সিসি অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে অগ্রিম কর নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কম সিসির মোটরসাইকেলকে করমুক্ত রাখা হতে পারে। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে দুই হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির জন্য পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম কর আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, বেশি সিসির মোটরসাইকেল সাধারণত সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাই ব্যবহার করেন। সেই বিবেচনায় তাঁদের করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্ত ঘিরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে মোটরসাইকেল চালক, রাইড শেয়ারিং সেবাকর্মী ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী মানেই করযোগ্য আয় করেন এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। অনেক শিক্ষার্থী, ডেলিভারিম্যান ও নিম্নআয়ের মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনেই মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন।

বর্তমানে দেশে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা। এর নিচে আয় হলে আয়কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু অগ্রিম কর চালু হলে করযোগ্য আয় না থাকলেও মোটরসাইকেল মালিকদের নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে।

বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল কেনা ও নিবন্ধনের সময়ই ক্রেতাদের বিভিন্ন ধরনের কর ও ফি দিতে হয়। এর পর আবার নতুন করে অগ্রিম কর আরোপ করা হলে তা শিল্প ও ভোক্তা উভয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মোটরসাইকেল বিক্রি কমে গেছে। সরকারের উৎসাহে দেশে বহু প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করে কারখানা স্থাপন করলেও নীতির ঘনঘন পরিবর্তনে ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। ২০১৮ সালের পর দেশীয়ভাবে মোটরসাইকেল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিক্রি কমেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর আদায়ের সহজ পথ হিসেবে উৎসে বা অগ্রিম করের ওপর বেশি নির্ভর করছে এনবিআর। তবে করযোগ্য আয় না থাকা মানুষের ওপর একই ধরনের কর আরোপ করলে তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা সৈয়দ আমিনুল করিম মনে করেন, দামি মোটরসাইকেলের মালিকদের করের আওতায় আনা যেতে পারে, তবে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আলাদা বিবেচনা প্রয়োজন।

রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং করে জীবিকা নির্বাহ করা চালকদের মধ্যেও এ নিয়ে হতাশা দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ সময় মোটরসাইকেল চালিয়ে আয় করতেই হিমশিম খেতে হয়, তার ওপর নতুন কর আরোপ হলে জীবিকা চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন